Impact of the United States withdrawing from 66 international organizations on Bangladesh

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাসহ মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে দেশটিকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ায় বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বহুপাক্ষিক সহযোগিতা দুর্বল করবে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে জলবায়ু, মানবিক সহায়তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও গণতন্ত্র খাতে। যেসব সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে…

যুক্তরাষ্ট্র ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সরে যাওয়ায় বাংলাদেশ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাসহ মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে দেশটিকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ায় বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বহুপাক্ষিক সহযোগিতা দুর্বল করবে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে জলবায়ু, মানবিক সহায়তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও গণতন্ত্র খাতে।


যেসব সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (UNFCCC), ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (IPCC), ইউনেসকো, মানবাধিকার পরিষদসহ জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থা। এছাড়া জাতিসংঘের বাইরে আরও ৩৫টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকেও সরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় অর্থদাতা দেশ এসব সংস্থা থেকে সরে দাঁড়ালে জলবায়ু তহবিল, গবেষণা ও অভিযোজনমূলক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইউএসএআইডির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গণতন্ত্র ও রোহিঙ্গা সহায়তাসহ বিভিন্ন খাতে বহু প্রকল্প স্থগিত হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলার সহায়তা পেয়ে আসছিল।


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান মনে করেন, বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হলে আন্তর্জাতিক আইন ও বৈশ্বিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে, যার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর।


বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানো শুধু অর্থনৈতিক নয়, প্রতীকীভাবেও বড় ক্ষতি। এতে অন্য ধনী দেশগুলোর অর্থায়ন কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং বৈশ্বিক ঐক্য দুর্বল হতে পারে।


বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জলবায়ু নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *