রূপসাটিভি/আন্তর্জাতিক নিউজ গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের চারজন শীর্ষ নেতার মৃত্যু দেশটিকে গভীর শোকের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। নিহতদের মধ্যে আছেন গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব, নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি, বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ। খবর পাওয়া গেছে যে, কিছু পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সহকর্মীরাও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান…
এক দিনে ইরানের চার শীর্ষ নেতার মৃত্যু, তেহরান শোকাচ্ছন্ন
রূপসাটিভি/আন্তর্জাতিক নিউজ
গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের চারজন শীর্ষ নেতার মৃত্যু দেশটিকে গভীর শোকের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। নিহতদের মধ্যে আছেন গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব, নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি, বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ। খবর পাওয়া গেছে যে, কিছু পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সহকর্মীরাও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিহতদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে এটি ‘কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি দেশবাসীর প্রতি শোক প্রকাশ করেন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের অভাবে দেশের সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর যে প্রভাব পড়েছে, তা তুলে ধরেন।
ইসরায়েলি বাহিনী গতকাল রাতে তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় একাধিক লক্ষ্যভেদী হামলা চালায়। এই হামলায় গোয়েন্দা মন্ত্রী খাতিবকে ধ্বংস করা হয় বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। একই সময়ে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে লারিজানি, খাতিব, সোলেইমানি এবং নাসিরজাদেহ 모두 হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
এই হত্যাকাণ্ডগুলি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর সংঘটিত সাম্প্রতিকতম ঘটনা। সেই অভিযানেই মারা যান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র হয়ে ওঠে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এক দিনে চারজন শীর্ষ নেতার মৃত্যু ইরানের প্রশাসনিক ও সামরিক কাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা, যা দেশটিকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে।
হামলাগুলি বিশেষত তেহরানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরে চালানো হয়। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অভিযান গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিত ‘টার্গেটেড কিলিং’-এর অংশ। একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তার মৃত্যু ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনার দিকে গভীর নজর দিচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বের অন্যান্য অংশের দেশগুলো উদ্বিগ্ন যে এই সংঘাত আরও জটিল আকার নেবে। বিশেষত, হরমুজ প্রণালী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শক্তি সরবরাহ রুটগুলোতে এর প্রভাব পড়তে পারে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে ব্যাপক অস্থিরতা বিরাজ করছে। শীর্ষ নেতৃত্বের এই হঠাৎ মৃত্যু দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী দিনগুলো ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে—শান্তি বজায় রাখা, শীর্ষ নেতৃত্বের ঘাটতি পূরণ এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য।

