United States officially withdraws from the World Health Organization amid global health concerns

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একসময় সংস্থাটির সবচেয়ে বড় অর্থদাতাদের অন্যতম দেশটি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করায় বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নেওয়া এই পদক্ষেপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনা। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক বছর আগে নির্বাহী আদেশের…

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়াল যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একসময় সংস্থাটির সবচেয়ে বড় অর্থদাতাদের অন্যতম দেশটি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করায় বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নেওয়া এই পদক্ষেপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনা।


প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক বছর আগে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ডব্লিউএইচও থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কোভিড-১৯ মহামারির সময় সংস্থাটির ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, মহামারিকালে ডব্লিউএইচও প্রয়োজনীয় সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং অতিমাত্রায় চীনঘেঁষা অবস্থান নিয়েছে।


মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এক বিবৃতিতে জানায়, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ডব্লিউএইচওর দুর্বলতা, কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক প্রভাবই এই প্রত্যাহারের মূল কারণ। তবে এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ডব্লিউএইচও।
সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ শুধু ডব্লিউএইচওর জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো বিশ্বের জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। পোলিও নির্মূল, এইডস প্রতিরোধ, মাতৃমৃত্যু হ্রাস এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তিসহ বহু বৈশ্বিক উদ্যোগে ডব্লিউএইচও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতার পর ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় একটি আন্তর্জাতিক মহামারি চুক্তি প্রণয়ন করে ডব্লিউএইচওর সদস্য রাষ্ট্রগুলো। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে চুক্তিটি অনুমোদিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র এতে অংশ নেয়নি। বিষয়টি নিয়েও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশ্ন উঠেছে।
ঐতিহাসিকভাবে ডব্লিউএইচওর অন্যতম প্রধান অর্থদাতা ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত অনুদান পরিশোধ করেনি দেশটি। ফলে সংস্থাটিকে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সংকুচিত করতে হয়েছে। ডব্লিউএইচওর আইনজীবীরা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে, যা পরিশোধের আইনগত বাধ্যবাধকতা আছে। যদিও ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা এই অর্থ পরিশোধের কোনো যুক্তি দেখছে না।


মার্কিন সরকার আরও জানায়, ডব্লিউএইচওতে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করা হয়েছে। জেনেভায় সংস্থার সদর দপ্তরসহ বিশ্বের বিভিন্ন অফিস থেকে মার্কিন কর্মী ও ঠিকাদারদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে শত শত যৌথ স্বাস্থ্য কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে।
মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ডব্লিউএইচও যুক্তরাষ্ট্রের অবদানকে অবমূল্যায়ন ও অপমান করেছে। তাদের দাবি, সংস্থাটি তার মূল লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছে।


ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের বিষয়টি আগামী ২ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাহী বোর্ডের বৈঠকে আলোচনায় আসবে। বোর্ডের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক উন্নত দেশই কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছিল। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড্রু অল্টম্যানের মতে, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে ডব্লিউএইচওর পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি, যার ফলে দেশটিতে মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *