মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের ড্রোন তৈরির কারখানাগুলো শনাক্ত করে সেসব স্থাপনায় লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মূলত সেইসব স্থাপনাকে লক্ষ্য করছে…
ইরানের ড্রোন কারখানা খুঁজে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের দাবি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের ড্রোন তৈরির কারখানাগুলো শনাক্ত করে সেসব স্থাপনায় লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মূলত সেইসব স্থাপনাকে লক্ষ্য করছে যেখানে সামরিক ড্রোন তৈরি করা হয়।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যে ড্রোনগুলো তৈরি করে সেগুলো ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা এবং ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হচ্ছে। এ কারণেই ড্রোন উৎপাদন ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে এসব কারখানায় হামলা চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, “ইরানের হাতে এখন খুব বেশি সামরিক শক্তি অবশিষ্ট নেই। আমরা তাদের উৎপাদন সক্ষমতার বড় একটি অংশ ধ্বংস করে দিয়েছি।” ট্রাম্পের মতে, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের ফলে ইরানের ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, বর্তমানে ইরানের ড্রোন সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। তার ভাষায়, ড্রোনের সংখ্যা এখন তাদের আগের শক্তির প্রায় ২০ শতাংশে নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, “গতকাল থেকেই আমরা সেইসব স্থানে হামলা চালাচ্ছি যেখানে এসব ড্রোন তৈরি করা হয়।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল মূলত ইরানের সামরিক উৎপাদন ব্যবস্থাকে দুর্বল করার দিকে কেন্দ্রীভূত।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরাইলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো।
এই সংঘাতে কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংঘর্ষে ইরানেরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হাজারেরও বেশি ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক অবকাঠামো ও ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কিছুটা কমতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি স্পর্শকাতর সময় নির্দেশ করছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্রদের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনা আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। 🌍

