US military forces deployed in northern Syria amid changing security situation

সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত বাস্তবতায় আবারও বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি খুব শিগগিরই সিরিয়া থেকে তাদের সব সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইসলামিক স্টেট (আইএস) মোকাবিলায় কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত মার্কিন সামরিক মিশন এখন কার্যত প্রশ্নের মুখে। ওয়াল স্ট্রিট…

সিরিয়া থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের পথে যুক্তরাষ্ট্র, বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশল

সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত বাস্তবতায় আবারও বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি খুব শিগগিরই সিরিয়া থেকে তাদের সব সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইসলামিক স্টেট (আইএস) মোকাবিলায় কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত মার্কিন সামরিক মিশন এখন কার্যত প্রশ্নের মুখে।


ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ইয়েনি সাফাক জানিয়েছে, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে এসডিএফ বড় ধরনের সাংগঠনিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সিরিয়ান আরব আর্মির ক্রমাগত অগ্রযাত্রার ফলে এসডিএফের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে সেখানে সেনা রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে।


প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সিরিয়ায় বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যাদের মূল দায়িত্ব ছিল আইএস দমন ও এসডিএফকে সহায়তা দেওয়া। তবে সাম্প্রতিক এক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া দ্রুত পরিবর্তনশীল ঘটনাপ্রবাহ পেন্টাগনকে তাদের সামরিক উপস্থিতির যৌক্তিকতা পুনর্মূল্যায়নে বাধ্য করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে আগের কৌশল আর কার্যকর মনে হচ্ছে না।


এসডিএফ যদি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে, তাহলে সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর অবস্থান ধরে রাখার আর কোনো বাস্তব ভিত্তি থাকবে না—এমনটাই মনে করছেন মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা। কারণ, এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতির প্রধান কারণ ছিল এই কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সঙ্গে অংশীদারত্ব। সেই ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ায় সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়িত হতে পারে।
এই সম্ভাব্য প্রত্যাহার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। এতে করে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত থাকা এই অঞ্চলগুলোতে সরকারি কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম হতে পারে।


এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক মিশনের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। বর্তমান পরিস্থিতি সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দিকে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।


তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেয়নি পেন্টাগন। সেনা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, তারা ভবিষ্যৎ বা কাল্পনিক সামরিক অভিযানের বিষয়ে মন্তব্য করে না। এই নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জল্পনাপূর্ণ করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সেনা প্রত্যাহার শুধু সিরিয়ার ভেতরকার শক্তির ভারসাম্যই বদলাবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশলেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *