ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। বুধবার এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের পর ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই উদ্যোগকে। ডেলসি রদ্রিগেজের এই সফর বাস্তবায়িত হলে, গত এক চতুর্থাংশ…
যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। বুধবার এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের পর ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই উদ্যোগকে।
ডেলসি রদ্রিগেজের এই সফর বাস্তবায়িত হলে, গত এক চতুর্থাংশ শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে তিনি হবেন প্রথম দায়িত্বপ্রাপ্ত ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট যিনি যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। এতে করে তেলসমৃদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রদ্রিগেজ নিজেই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতার পথে হাঁটতে আগ্রহী তার সরকার। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো ভয় ছাড়াই আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য ও সমস্যাগুলোর সমাধান চাই। কূটনীতির মাধ্যমেই আমরা সামনে এগোতে চাই।’ তার এই বক্তব্য ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ডেলসি রদ্রিগেজ ছিলেন ভেনেজুয়েলার আগের কর্তৃত্ববাদী ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ক্ষমতায় আসার পর তিনি ধীরে ধীরে আগের অবস্থান থেকে সরে এসে বাস্তবমুখী ও সমঝোতামূলক নীতির দিকে ঝুঁকেছেন।
এই সফরের প্রেক্ষাপট আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্স কারাকাসে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে মাদক পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। সেই ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্ক চরম উত্তেজনায় পৌঁছেছিল। বর্তমান আমন্ত্রণ সেই নাটকীয় পরিবর্তনেরই বহিঃপ্রকাশ।
তবে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত থাকলেও ডেলসি রদ্রিগেজ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সম্পদ জব্দসহ বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এর পরও তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রিতে মধ্যস্থতার সুযোগ দিয়েছেন, বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করেছেন এবং বেশ কয়েক ডজন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদা ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ডেলসি রদ্রিগেজের সফর সেই কৌশলেরই একটি অংশ হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সফরের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হলেও এখনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তবে খুব শিগগিরই এই সফর অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ডেলসি রদ্রিগেজের যুক্তরাষ্ট্র সফর কেবল একটি কূটনৈতিক ঘটনা নয়; এটি ভেনেজুয়েলা–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনাও হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে।

