কক্সবাজারের চাঞ্চল্যকর বেলাল উদ্দিন জিহাদ হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি ও নিহতের স্ত্রী তাহেরা বেগম আঁখিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৫। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।সোমবার (১৬ মার্চ) বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে উখিয়া উপজেলার কোটবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাবের একটি চৌকস দল…
জিহাদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি টিকটকার আঁখি গ্রেফতার
কক্সবাজারের চাঞ্চল্যকর বেলাল উদ্দিন জিহাদ হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি ও নিহতের স্ত্রী তাহেরা বেগম আঁখিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৫। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে উখিয়া উপজেলার কোটবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাবের একটি চৌকস দল অভিযানটি পরিচালনা করে।
গ্রেফতার তাহেরা বেগম আঁখি উখিয়ার খুলিয়াপালং ইউনিয়নের দরিয়ার দিঘী এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা মোহাম্মদ মুসা। স্থানীয়ভাবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘টিকটকার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
নিহত বেলাল উদ্দিন জিহাদ (২২) রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পেশায় একজন টমটম চালক ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন শান্ত স্বভাবের যুবক হিসেবে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরংলোয়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে জিহাদের গলাকাটা ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
লাশ উদ্ধারের পর থেকেই নিহতের স্ত্রী তাহেরা বেগম আঁখি নিখোঁজ হয়ে যান এবং আত্মগোপনে চলে যান। পরে নিহতের পরিবার বাদী হয়ে রামু থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে, যেখানে তাকে প্রধান আসামি করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-১৫ ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। প্রযুক্তি ও মানব গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয় বলে জানায় র্যাব।
পরবর্তীতে নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে কোটবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারের সময় তিনি অন্যত্র পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য রামু থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তারা জনগণকে যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। ⚖

