ঢাকা, ১ জানুয়ারি ২০২৬: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা আরও জোরদার করতে বিদ্যমান ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ সংশোধন করে প্রণীত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ কার্যকর হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা পায়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে প্রস্তাবিত এই অধ্যাদেশের মূল…
ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর অধ্যাদেশ কার্যকর
ঢাকা, ১ জানুয়ারি ২০২৬: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা আরও জোরদার করতে বিদ্যমান ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ সংশোধন করে প্রণীত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ কার্যকর হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা পায়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে প্রস্তাবিত এই অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য হলো তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং সময়োপযোগী ও আধুনিক আইন কাঠামো নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বিড়ি উৎপাদন সংক্রান্ত পৃথক আইন বাতিল করে একীভূত আইন প্রণয়ন এবং ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নতুন অধ্যাদেশে ‘তামাকজাত দ্রব্য’-এর সংজ্ঞা সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এতে ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (HTP), নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের উদীয়মান পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘নিকোটিন’ ও ‘নিকোটিন দ্রব্য’-এর পৃথক সংজ্ঞা সংযোজন করা হয়েছে এবং ‘পাবলিক প্লেস’-এর পরিধি আগের তুলনায় ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, দেশের সব পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা আগের ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা আইন প্রয়োগে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তামাকের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা বন্ধে অধ্যাদেশে কঠোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের পাশাপাশি অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট প্রদর্শন, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহার এবং কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতে তামাক কোম্পানির আর্থিক সহায়তা প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ই-সিগারেট ও সব ধরনের উদীয়মান তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহারকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশে কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ির উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত বিড়ি উৎপাদন (নিষেধাজ্ঞা) অধ্যাদেশ, ১৯৭৫ বাতিল করা হয়েছে। তামাকের সঙ্গে কোনো ক্ষতিকর বা আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানোও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের অন্তত ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন ছবি ও স্বাস্থ্য সতর্কবার্তাসহ স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া কোনো তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
নতুন অধ্যাদেশে শাস্তি ও প্রয়োগ ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে। জরিমানা ও কারাদণ্ড বৃদ্ধির পাশাপাশি কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল, পণ্য জব্দ এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অধ্যাদেশ কার্যকর হলে দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

