বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত “যোদ্ধা” হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষাজীবন কেবল পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং ছাত্রদের নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং নেতৃত্বগুণে সমৃদ্ধ হয়ে জাতির কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। সোমবার…
প্রতিটি শিক্ষার্থী হবে একেকজন যোদ্ধা জামায়াত আমির
বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত “যোদ্ধা” হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষাজীবন কেবল পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং ছাত্রদের নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং নেতৃত্বগুণে সমৃদ্ধ হয়ে জাতির কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে গাজীপুর জেলার টঙ্গীতে অবস্থিত তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার তরুণ প্রজন্মের ওপর। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রতিটি পরীক্ষার জন্য মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “যোদ্ধা” বলতে কেবল অস্ত্রধারী কাউকে বোঝায় না; বরং জ্ঞান, চরিত্র, ন্যায়বোধ ও সাহস দিয়ে সমাজের অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সক্ষমতাকেই বোঝায়।
তিনি আরও বলেন, তা’মীরুল মিল্লাত প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল ঈমানদার, দেশপ্রেমিক এবং দক্ষ নেতৃত্ব তৈরি করা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই প্রতিষ্ঠানের তিনজন সাবেক শিক্ষার্থী জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাওয়ার বিষয়টি তিনি গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন। তাদের মাধ্যমে দ্বীন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনে তরুণ নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দেবে এবং নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখবে। এজন্য শিক্ষার্থীদের আদর্শবান ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তা’মীরুল মিল্লাতের যেসব শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাদের অবদান স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল এহসান এবং সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট মাওলানা আতিকুর রহমান। আলোচনা পর্বে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সময় বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এমন আয়োজন প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় করবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে অনুপ্রাণিত করবে।

