সাধারণ মানুষের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছানো আরও সহজ করতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মোবাইল ফোন আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক এক ধাক্কায় প্রায় ৬০ শতাংশ কমানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আমদানিকৃত স্মার্টফোনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এনবিআর থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে…
মোবাইল ফোন আমদানিতে বড় স্বস্তি শুল্ক ৬০ শতাংশ কমালো এনবিআর
সাধারণ মানুষের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছানো আরও সহজ করতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মোবাইল ফোন আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক এক ধাক্কায় প্রায় ৬০ শতাংশ কমানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আমদানিকৃত স্মার্টফোনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এনবিআর থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই শুল্ক কাঠামো ১৩ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তিদায়ক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ জানিয়েছেন, স্মার্টফোন এখন আর বিলাসপণ্য নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং, ই-কমার্স এবং ডিজিটাল সেবার বিস্তারে মোবাইল ফোনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই সরকার জনগণের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে এই শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, নতুন শুল্ক সুবিধার ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের একটি আমদানিকৃত স্মার্টফোনের দাম গড়ে ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য স্মার্টফোন কেনা আরও সহজ হবে।
শুধু আমদানিকৃত ফোন নয়, দেশীয় মোবাইল সংযোজন শিল্পকেও এই সিদ্ধান্তের আওতায় সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশীয়ভাবে মোবাইল ফোন সংযোজনের জন্য ব্যবহৃত কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় শিল্পের ওপর শুল্কের চাপ প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
এনবিআর ধারণা করছে, এর ফলে দেশে সংযোজিত ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের একটি স্মার্টফোনের দাম গড়ে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। এতে দেশীয় শিল্প প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে থাকবে এবং কর্মসংস্থান বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
সরকার মনে করছে, মোবাইল ফোনের দাম কমলে বৈধ পথে আমদানির হার বাড়বে এবং অবৈধভাবে দেশে আসা হ্যান্ডসেটের পরিমাণ কমে আসবে। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণে স্বচ্ছতা আসবে এবং বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হবে।
এনবিআর তাদের বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রযুক্তি পণ্যে কর ও শুল্ক সুবিধা একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়লে অনলাইন শিক্ষা, টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল আর্থিক সেবা ও ই-গভর্ন্যান্স আরও বিস্তৃত হবে।
জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বজনীন ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের করবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

