বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কয়েকদিন ধরেই অস্থিরতা বিরাজ করছিল, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল Donald Trump-এর ইরানকে দেওয়া কঠোর হুমকি। তিনি ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য। অন্যথায় তেহরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ব্যাপক সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দেন। এতে বৈশ্বিক উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায় এবং তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়। অন্যদিকে, Iran এ…
ট্রাম্পের হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্তে তেলের দামে বড় পতন
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কয়েকদিন ধরেই অস্থিরতা বিরাজ করছিল, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল Donald Trump-এর ইরানকে দেওয়া কঠোর হুমকি। তিনি ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য। অন্যথায় তেহরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ব্যাপক সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দেন। এতে বৈশ্বিক উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায় এবং তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়।
অন্যদিকে, Iran এ হুমকিকে গুরুত্ব দিলেও ভয় পায়নি। বরং তারা পাল্টা সতর্কবার্তা দেয়—তাদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য আরব দেশের তেল ও গ্যাসক্ষেত্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
বিশেষ করে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর Strait of Hormuz কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। এর ফলে কয়েকদিনের মধ্যেই প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছিল।
তবে পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয় যখন ট্রাম্প পাঁচ দিনের জন্য সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিত করার নির্দেশ দেন। এই সিদ্ধান্তে বাজারে স্বস্তি ফিরে আসে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়ে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করে।
জিএমটি সময় সকাল ১১:০৮ নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৭ ডলার কমে ৯৬ ডলারে নেমে আসে, যা প্রায় ১৫ শতাংশ হ্রাস নির্দেশ করে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ১৩ ডলার বা প্রায় ১৩.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৮৫.২৮ ডলারে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের সম্ভাবনা কমে যাওয়াই এই পতনের প্রধান কারণ। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা সরাসরি তেলের সরবরাহকে প্রভাবিত করে এবং দাম বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু যখন সংঘাতের ঝুঁকি কমে, তখন বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হতে শুরু করে।
এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল, বৈশ্বিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজার একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত মুহূর্তেই আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দিতে পারে।

