রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত এবং তিন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল সংক্রান্ত সংবাদ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া ‘প্রক্সি’-কাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে তিন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্বও বাতিল করা হয়েছে। সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান। চাকরিচ্যুত শিক্ষক সাদিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট ফেসবুকে ধর্ষণের…

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হয়রানির অভিযোগে এক শিক্ষক চাকরিচ্যুত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া ‘প্রক্সি’-কাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে তিন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্বও বাতিল করা হয়েছে। সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান।


চাকরিচ্যুত শিক্ষক সাদিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট ফেসবুকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে একটি পোস্ট করা হয়। অভিযোগ প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। এরপর আইন বিভাগ পাঁচ সদস্যের সত্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেট সভায় তাঁকে সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।


৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ‘প্রক্সি’ দিয়ে ভর্তি হওয়ার অভিযোগে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের মেহেদী হাসান (সনি), আইন বিভাগের ফাহিম আল মামুন (বর্ণ) এবং ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের মো. শোভন এর ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়। জানা গেছে, শোভন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার ভাতিজা।


চাকরিচ্যুত শিক্ষক সাদিকুল ইসলাম প্রথম আলোর কাছে বলেন, “আমি সিন্ডিকেট সদস্য ও লিগ্যাল সেলের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে একপক্ষীয় অন্যায় ও অবিচার করা হয়েছে। আমি এই বিষয়ে উচ্চ আদালতে যাব।”
অন্যদিকে সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হলের নাম পরিবর্তন করে বিজয়-৭১, এবং নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা হলের নাম রাখা হয়েছে অপরাজিতা।


এই পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট সভা সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন ঘটনা পুনরায় ঘটার সম্ভাবনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আশা করছে, এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ন্যায়বিচার ও দায়িত্ববোধের উদ্দীপনা জাগাবে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *