বুলাওয়েতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হৃদয়ভাঙা হার দেখল বাংলাদেশ। জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও ভারতের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ডিএলএস পদ্ধতিতে ১৮ রানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয় লাল-সবুজের যুবাদের। ম্যাচের বড় অংশজুড়ে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শেষ মুহূর্তের ব্যাটিং ধসে সব সম্ভাবনা মুছে যায়। বৃষ্টির কারণে ম্যাচের ছন্দে বারবার বিঘ্ন ঘটে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায়…
ভারতকে হারাতে পারল না বাংলাদেশ
বুলাওয়েতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হৃদয়ভাঙা হার দেখল বাংলাদেশ। জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও ভারতের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ডিএলএস পদ্ধতিতে ১৮ রানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয় লাল-সবুজের যুবাদের। ম্যাচের বড় অংশজুড়ে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শেষ মুহূর্তের ব্যাটিং ধসে সব সম্ভাবনা মুছে যায়।
বৃষ্টির কারণে ম্যাচের ছন্দে বারবার বিঘ্ন ঘটে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৯ ওভারে ১৬৫ রান। রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ছিল যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। ১৭.২ ওভার শেষে দলের সংগ্রহ ছিল ৯০ রান, উইকেট পড়েছিল মাত্র দুটি। তখন হাতে ছিল পর্যাপ্ত সময় ও উইকেট। প্রয়োজন ছিল ৭০ বলে ৭৫ রান—যা ম্যাচের প্রেক্ষাপটে মোটেও অসম্ভব ছিল না।
দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম ও রিফাত বেগের ৬৮ রানের জুটি বাংলাদেশকে জয়ের পথে এগিয়ে নেয়। তামিম ছিলেন দৃঢ় ও দায়িত্বশীল। তিনি করেন ৫১ রান। রিফাত বেগও দারুণ সমর্থন দিয়ে যোগ করেন ৩৭ রান। এই জুটির ওপর ভর করেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই বাংলাদেশের হাতে চলে আসে।
কিন্তু বৃষ্টিবিরতির পর দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। ভারতীয় বোলার বিহান মালহোত্রার অফস্পিনে হঠাৎ করেই দিশেহারা হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। রান তোলার তাড়নায় ব্যাটাররা অপ্রয়োজনীয় শট খেলতে গিয়ে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকেন। শেষ ৪০ রানের মধ্যেই পড়ে যায় শেষ আটটি উইকেট। মাত্র ২৮.৩ ওভারে ১৪৬ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডার ব্যাটাররা প্রত্যাশিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হন। প্রয়োজনের সময় ঠাণ্ডা মাথায় খেলার অভাবই মূলত এই ব্যাটিং ধসের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ভারত সংগ্রহ করে ২৩৮ রান। ৪৮.৪ ওভারে এই রান তোলে তারা। ভারতের হয়ে অভিজ্ঞান কুন্ডু করেন সর্বোচ্চ ৮০ রান। এছাড়া বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাট থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ রান।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন আল ফাহাদ। শুরুতে দুটি উইকেট নেওয়ার পর শেষ দিকে ফিরে এসে আরও তিনটি উইকেট শিকার করেন তিনি। পাঁচ উইকেট নেওয়া এই বোলারই ছিলেন বাংলাদেশের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক। তবে তার এই অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্সও দলকে জয়ের স্বাদ এনে দিতে পারেনি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি হয়ে রইলেন ম্যাচের ট্র্যাজিক হিরো।
এই হারের ফলে গ্রুপ বি-তে বাংলাদেশের পথচলা শুরু হলো চাপের মধ্যে দিয়ে। সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ভুলগুলো শুধরে নেওয়াই এখন দলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

