Lionel Messi kissing the FIFA World Cup trophy during the 2022 World Cup celebration

ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় প্রতীক—লিওনেল মেসির চুম্বনে স্মরণীয় হয়ে ওঠা ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি—এখন অবস্থান করছে বাংলাদেশে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে মেসি যে ট্রফিটিতে চুমু এঁকে দিয়েছিলেন, সেটিই আজ ঢাকায় এসেছে ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে। ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর, কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা যখন ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের…

মেসির চুম্বনে ইতিহাস গড়া বিশ্বকাপ ট্রফি এখন ঢাকায়

ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় প্রতীক—লিওনেল মেসির চুম্বনে স্মরণীয় হয়ে ওঠা ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি—এখন অবস্থান করছে বাংলাদেশে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে মেসি যে ট্রফিটিতে চুমু এঁকে দিয়েছিলেন, সেটিই আজ ঢাকায় এসেছে ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে।


২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর, কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা যখন ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে, তখন ফুটবল বিশ্ব এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়। গোল্ডেন বল হাতে নিয়ে পোডিয়াম ছাড়ার মুহূর্তে মেসির চোখ পড়ে পাশে রাখা বিশ্বকাপ ট্রফির দিকে। আবেগ সামলাতে না পেরে তিনি এগিয়ে গিয়ে ট্রফিটিতে চুমু আঁকেন। সেই দৃশ্য শুধু আর্জেন্টিনার নয়, পুরো ফুটবল ইতিহাসেই এক প্রতীকী মুহূর্ত হয়ে আছে।


আজ সকালে সেই ঐতিহাসিক ট্রফিটি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছান ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান তারকা গিলবার্তো সিলভা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখার মধ্য দিয়েই শুরু হয় ট্রফির বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিকতা। ফিফার তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই ট্রফি ট্যুরের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশ্বকাপের আবেগ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।


বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ট্রফির আগমন অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগে ২০০২, ২০১৩ এবং সর্বশেষ ২০২২ সালেও এই ট্রফি ঢাকায় এসেছিল। তবে প্রতিবারই এর প্রতি দর্শকদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। এবারের সফরটি শুরু হয়েছে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সৌদি আরব থেকে। প্রায় ১৫০ দিনব্যাপী এই যাত্রায় ট্রফিটি বিশ্বের ৩০টি দেশের ৭৫টি ভেন্যু ঘুরে দেখানো হবে। সফরের শেষ গন্তব্য মেক্সিকো, যেখানে আগামী ১২ জুন শুরু হবে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬।


ঢাকায় আসা ট্রফিটি কোনো রেপ্লিকা নয়; এটিই আসল ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি। নিখাদ সোনা দিয়ে তৈরি এই শিরোপার ওজন ৬.১৭৫ কেজি। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর বিজয়ী দল এই ট্রফি হাতে তুলে নিলেও তারা এটি স্থায়ীভাবে রাখতে পারে না। পরিবর্তে তাদের দেওয়া হয় সোনায় মোড়ানো একটি রেপ্লিকা ট্রফি।
এবারের ট্রফি প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে সীমিত পরিসরে। কোকা-কোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ ক্যাম্পেইনের আওতায় নির্বাচিত বিজয়ীরাই কেবল ট্রফিটি কাছ থেকে দেখার ও ছবি তোলার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রবেশের জন্য টিকিটের বৈধ কপি ও কোকা-কোলার বোতলের ক্যাপ সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


আজ দুপুর ১টা থেকে ঢাকায় ট্রফির প্রদর্শনী শুরু হয়, যা সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরই ট্রফিটি বাংলাদেশ ত্যাগ করবে পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। অল্প সময়ের এই সফর হলেও, মেসির চুম্বনে ইতিহাস গড়া ট্রফিকে এক নজর দেখার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *