রাজধানী ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় গভীর রাতে সংঘটিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রিল কেটে একটি আবাসিক ভবনে প্রবেশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ব্যক্তির নাম আনোয়ার উল্লাহ (৭৬)। তিনি ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতে ইসলামীর শের-ই-বাংলা নগর দক্ষিণ থানার পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি ছিলেন। নিহত আনোয়ার উল্লাহ পেশায় একজন…
ঢাকায় গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকে জামায়াত নেতাকে হত্যা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ
রাজধানী ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় গভীর রাতে সংঘটিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রিল কেটে একটি আবাসিক ভবনে প্রবেশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ব্যক্তির নাম আনোয়ার উল্লাহ (৭৬)। তিনি ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতে ইসলামীর শের-ই-বাংলা নগর দক্ষিণ থানার পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি ছিলেন।
নিহত আনোয়ার উল্লাহ পেশায় একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ও শিক্ষক ছিলেন। এলাকাবাসীর কাছে তিনি একজন মানবিক ও সেবাপরায়ণ মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে পশ্চিম রাজাবাজার এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি প্রথমে বারান্দার গ্রিল এবং পরে একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে। তারা প্রায় দুই ঘণ্টা ঘরের ভেতরে অবস্থান করে এবং ভোরের দিকে বেরিয়ে যায়।
পরিবারের দাবি, দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে আনোয়ার উল্লাহ ও তার স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তারা বাসা থেকে প্রায় আট ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ পাঁচ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের মতে, এটি কোনো সাধারণ চুরির ঘটনা নয়; বরং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
নিহতের জামাতা মো. শামসুদ্দোহা জানান, ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে তার শাশুড়ি ফোন করে তাকে ঘটনার কথা জানান। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ার উল্লাহকে অচেতন অবস্থায় পান। তার গলায় একটি ওড়না প্যাঁচানো ছিল। পরে তাকে নিকটবর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুবায়েত রাকিব সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। প্রতিবেদনে নিহতের কপাল ও ডান হাঁটুতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এছাড়া মুখে কাপড় গুঁজে ও হাত বেঁধে তাকে নির্যাতনের আলামতও পাওয়া গেছে।
ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ঘটনাটি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

