মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরান দাবি করেছে, তারা ইসরাইল-এর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে একটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলাকে তারা সাম্প্রতিক সামরিক ক্ষয়ক্ষতির প্রতিশোধ হিসেবে উল্লেখ করেছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে আল জাজিরা প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পশ্চিম জেরুজালেমে অবস্থিত মন্ত্রণালয় ভবনকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তেহরান দাবি করেছে।…
ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ইরানের ড্রোন হামলার দাবি
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরান দাবি করেছে, তারা ইসরাইল-এর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে একটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলাকে তারা সাম্প্রতিক সামরিক ক্ষয়ক্ষতির প্রতিশোধ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে আল জাজিরা প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পশ্চিম জেরুজালেমে অবস্থিত মন্ত্রণালয় ভবনকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তেহরান দাবি করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত হামলার ফলে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কিনা—তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’-এর নৌসদস্যদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশটির গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হওয়ার ঘটনাকেও এই হামলার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’কে লক্ষ্য করে টর্পেডো হামলার অভিযোগ তোলে তেহরান। তাদের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালায়, যখন জাহাজটি ভারতের একটি সামরিক মহড়া শেষে নিজ দেশে ফিরছিল। এই হামলায় ৮০ জনের বেশি নৌসদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়, যা ইরানের সামরিক শক্তির ওপর বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের সংঘাতের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। কারণ, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে এই সংঘাত শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে; এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য শক্তিধর দেশ জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে এই উত্তেজনা একটি বৃহৎ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

