Damaged US F-35 fighter jet after Iranian attack in Middle East conflict

রূপসাটিভি/আন্তর্জাতিক ডেস্ক মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে বড় ধরনের সামরিক ঘটনা সামনে এসেছে। ইরান-এর হামলায় যুক্তরাষ্ট্র-এর একটি অত্যাধুনিক F-35 Lightning II যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনাটি সাম্প্রতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিমানটি একটি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার সময় ইরানি বাহিনীর গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আঘাতের পর পাইলট দ্রুত…

ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন যুদ্ধবিমান

রূপসাটিভি/আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে বড় ধরনের সামরিক ঘটনা সামনে এসেছে। ইরান-এর হামলায় যুক্তরাষ্ট্র-এর একটি অত্যাধুনিক F-35 Lightning II যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনাটি সাম্প্রতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিমানটি একটি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার সময় ইরানি বাহিনীর গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আঘাতের পর পাইলট দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মধ্যপ্রাচ্যের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হন। যদিও বিমানটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বার্তা বহন করছে।
Islamic Revolutionary Guard Corps এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে United States Central Command (সেন্টকম)-এর মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং পাইলট শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।


উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, F-35 Lightning II একটি পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান, যা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি। একটি এমন বিমান তৈরি করতে সাধারণত ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ হয়। তাই এই ক্ষতি শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই ঘটনার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সরাসরি কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের হামলার শিকার হলো।


এদিকে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানেও পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। উত্তরাঞ্চলের কিরিয়াত শেমোনা শহরে রকেট হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। পাশাপাশি হাইফা অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয় একটি তেল শোধনাগার, যদিও বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো গেছে।
সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। কাতার-এর রাস লাফান এলএনজি স্থাপনায় হামলার ফলে দেশটির প্রায় ১৭ শতাংশ গ্যাস রপ্তানি সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।


একইভাবে সৌদি আরব-এর ইয়ানবু অঞ্চলেও ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা চালানো হয়, যদিও বেশিরভাগই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া কুয়েত-এর জ্বালানি স্থাপনাও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *