বাংলার জনকণ্ঠ আন্তর্জাতিক ডেস্কঅস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া আগুনে শতাধিক বাড়িঘর পুড়ে গেছে এবং প্রায় ৩৮ হাজার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজ্যজুড়ে এখনো ১০টির বেশি বড় আগুন সক্রিয় রয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। শনিবার (১০ জানুয়ারি) অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়,…
দাবানলে বিপর্যস্ত অস্ট্রেলিয়া, বিদ্যুৎহীন ৩৮ হাজার ঘরবাড়ি
বাংলার জনকণ্ঠ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া আগুনে শতাধিক বাড়িঘর পুড়ে গেছে এবং প্রায় ৩৮ হাজার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজ্যজুড়ে এখনো ১০টির বেশি বড় আগুন সক্রিয় রয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেই এসব দাবানলের সূত্রপাত হয়। প্রচণ্ড গরম, শুষ্ক আবহাওয়া ও ঝোড়ো বাতাস আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ হেক্টরের বেশি বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে এবং অন্তত ১৩০টির বেশি স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে হাজার হাজার দমকলকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক মাঠে কাজ করছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পরিষেবা জোরদার করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে। তবে আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে অনেক এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ক্যানবেরা থেকে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, দেশটি বর্তমানে “চরম ও বিপজ্জনক অগ্নিঝুঁকির সময়” পার করছে। বিশেষ করে ভিক্টোরিয়ায় পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, রাজ্যের বড় একটি অংশকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তিনি দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত আঞ্চলিক এলাকার মানুষের প্রতি সমবেদনা জানান।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাবানলের ঝুঁকিতে থাকা বহু এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন পার্ক, বনাঞ্চল ও ক্যাম্পগ্রাউন্ড সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে ধোঁয়াচ্ছন্ন এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ভিক্টোরিয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতেও অগ্নিঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর। তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, এটি ২০১৯–২০২০ সালের ভয়াবহ ‘ব্ল্যাক সামার’ দাবানলের পর ভিক্টোরিয়ায় সবচেয়ে মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড। সে সময় ব্যাপক প্রাণহানি ও পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। বর্তমান দাবানলেও পরিবেশ, বন্যপ্রাণী ও জনজীবনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

