Government supporters rally on the streets of Iran amid ongoing nationwide protests and political unrest.

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে, কারণ এবার রাস্তায় নেমেছে সরকার সমর্থকরাও। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ৪৭ বছরের ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি বিরল, যেখানে একই সময়ে সরকারবিরোধী ও সরকারপন্থি উভয় পক্ষই রাজপথে সক্রিয়।সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর…

ইরানে বিক্ষোভ অব্যাহত, রাস্তায় সরকার সমর্থকরা; যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় নতুন মোড়

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে, কারণ এবার রাস্তায় নেমেছে সরকার সমর্থকরাও। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ৪৭ বছরের ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি বিরল, যেখানে একই সময়ে সরকারবিরোধী ও সরকারপন্থি উভয় পক্ষই রাজপথে সক্রিয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের মধ্যেও আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছাড়েনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও আন্তর্জাতিক মাত্রা পায়। এর জবাবে ইরান কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে পাল্টা হুমকি দেয়।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের বিক্ষোভ আগের যেকোনো আন্দোলনের তুলনায় বেশি বিস্তৃত ও তীব্র। বড় শহরের পাশাপাশি ছোট ও প্রত্যন্ত শহরেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে, যেগুলোর নাম আগে খুব একটা আলোচনায় আসেনি। সমাজবিজ্ঞানী এলি খোরসান্দফারের মতে, এই ব্যাপক অংশগ্রহণই এবারের আন্দোলনকে ‘অভূতপূর্ব’ করে তুলেছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলমান সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৫৪০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। সরকারের দাবি, বিদেশি শক্তির মদদে প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীরা আন্দোলনকে সহিংস রূপ দিয়েছে। তবে হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তেহরানের একটি মর্গে শতাধিক মরদেহের উপস্থিতির তথ্যও সামনে এসেছে।
এই প্রেক্ষাপটে, ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকার সমর্থনে মিছিল ও সমাবেশ শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, হামিদান, ইলামসহ একাধিক শহরে সরকারি আহ্বানে এসব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সরকারি দপ্তর ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে নাগরিকদের এসব কর্মসূচিতে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হয়। প্রেসিডেন্ট, সংসদের স্পিকার এবং বিচার বিভাগের প্রধানসহ শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান সমঝোতার জন্য যোগাযোগ করেছে। তিনি বলেন, সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় রেখেই ইরানি পক্ষ আলোচনা চাচ্ছে। যদিও ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরান যুদ্ধ চায় না, তবে আত্মরক্ষার জন্য সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি বলেন, ন্যায্যতা, পারস্পরিক সম্মান ও সমান অধিকারের ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে ইরান প্রস্তুত। একই সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগের চ্যানেল খোলা রয়েছে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে চীন ইরান পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে। বেইজিং স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধী। আঞ্চলিক শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন।
সব মিলিয়ে, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এখন শুধু দেশটির জন্য নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *