বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পাকিস্তান শাসনামলে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে কখনোই ন্যায্য ও ইনসাফপূর্ণ আচরণ করেনি। দীর্ঘ ২৩ বছর এক রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত থাকার পরও বৈষম্য, বঞ্চনা ও রাজনৈতিক অবহেলার শিকার হতে হয়েছে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে নীরব প্রতিরোধ, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে…
পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করেনি জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পাকিস্তান শাসনামলে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে কখনোই ন্যায্য ও ইনসাফপূর্ণ আচরণ করেনি। দীর্ঘ ২৩ বছর এক রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত থাকার পরও বৈষম্য, বঞ্চনা ও রাজনৈতিক অবহেলার শিকার হতে হয়েছে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে নীরব প্রতিরোধ, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছিল। অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক অবদমন এবং প্রশাসনিক বৈষম্য একসময় জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করে।
তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচন ছিল এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের প্রতীক। তবে নির্বাচনের রায়কে সম্মান না করায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়, যেখানে অসংখ্য মানুষ জীবন উৎসর্গ করে এবং সীমাহীন ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
জামায়াত আমির বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাস কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অবদান হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। বরং পুরো জাতি, সাধারণ জনগণই এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যেসব বিপ্লব, গণঅভ্যুত্থান ও পরিবর্তন এসেছে, সেগুলোর প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড হলো জনগণ নিজেই।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে এমন একটি নির্বাচন প্রয়োজন, যেখানে ভোটাররা ভয় ও চাপমুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং আগের মতো কোনো আপসকৃত বা বোঝাপড়ার নির্বাচন না হওয়া।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং পারস্পরিক আস্থার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। উপমহাদেশ প্রায় ১৯০ বছরের শোষণমূলক শাসন থেকে মুক্ত হলেও পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ নতুন করে আরেক দফা বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধেই গড়ে ওঠে স্বাধীনতার আন্দোলন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সুষ্ঠু গণতন্ত্র, অবাধ নির্বাচন এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করাই রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রধান দায়িত্ব।

