আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রীড়া সম্পর্ক নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ভারতের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের পক্ষে সেখানে গিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তাঁর মতে, খেলাধুলা একটি বৈশ্বিক ও মানবিক বন্ধনের মাধ্যম হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি রাজনৈতিক ও…
ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পক্ষে ক্রিকেট খেলা নিরাপদ নয় আসিফ নজরুল
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রীড়া সম্পর্ক নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ভারতের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের পক্ষে সেখানে গিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তাঁর মতে, খেলাধুলা একটি বৈশ্বিক ও মানবিক বন্ধনের মাধ্যম হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক প্রভাবের বাইরে থাকছে না।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, “গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ভারতে বাংলাদেশবিরোধী একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।” তাঁর ভাষায়, খেলাধুলা কখনোই বিদ্বেষ বা রাজনৈতিক চাপের শিকার হওয়া উচিত নয়।
আসিফ নজরুল আরও অভিযোগ করেন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) উগ্র সাম্প্রদায়িক চাপের কাছে নতি স্বীকার করছে, যার একটি উদাহরণ আইপিএল থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনা। তাঁর মতে, এটি কেবল একজন খেলোয়াড়ের বিষয় নয়, বরং একটি দেশের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিফলন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কোনো টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ কেবল বাজার ব্যবস্থাপনা বা একক দেশের প্রভাবের ওপর নির্ভর করতে পারে না। ক্রিকেট একটি আন্তর্জাতিক খেলা এবং এর সিদ্ধান্ত হতে হবে ন্যায্যতা ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে।”
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতোমধ্যেই ভারতের বাইরে বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কাকে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে গুঞ্জন রয়েছে, আইসিসি ভারতের ভেতরেই চেন্নাই বা তিরুবনন্তপুরমকে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।
এই প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল স্পষ্টভাবে বলেন, “চেন্নাই হোক বা তিরুবনন্তপুরম—দুটোই ভারতের ভেতরে। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, এই মুহূর্তে ভারতের কোনো জায়গাতেই খেলার মতো নিরাপদ পরিবেশ নেই।” তিনি বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম উল্লেখ করেন এবং বলেন, এসব দেশে খেলতে বাংলাদেশের কোনো আপত্তি নেই।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইসিসি যদি সত্যিকার অর্থে একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া সংস্থা হিসেবে কাজ করে এবং কোনো একটি দেশের প্রভাবে পরিচালিত না হয়, তাহলে বাংলাদেশের যৌক্তিক নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দেবে। তিনি আরও জানান, আইসিসির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ঘাটতি সংক্রান্ত একটি চিঠি বিসিবিকে পাঠানো হয়েছে, যা শিগগিরই গণমাধ্যমের সামনে আনা হবে।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের ম্যাচগুলো কলকাতা ও মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সেখানে যেতে অনাগ্রহী বাংলাদেশ দল। এদিকে বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি রয়েছে চার সপ্তাহেরও কম সময়, ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
সব মিলিয়ে, ক্রিকেট মাঠের বাইরের বাস্তবতা এখন মাঠের ভেতরের খেলাকেও প্রভাবিত করছে। বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট—খেলতে আপত্তি নেই, তবে নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস নয়।

