ইরানের রাজধানী তেহরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এক রাতেই গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। টাইম ম্যাগাজিন জানায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকে তেহরানে বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে।…
তেহরানে ভয়াবহ দমন-পীড়ন গুলিতে নিহত দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী
ইরানের রাজধানী তেহরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এক রাতেই গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
টাইম ম্যাগাজিন জানায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকে তেহরানে বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে। হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ রক্তপাতের ঘটনা ঘটে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেহরানের এক চিকিৎসকের বরাতে টাইম জানায়, শুধুমাত্র রাজধানীর ছয়টি হাসপাতালে এক রাতেই ২০৬ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। চিকিৎসক আরও জানান, নিহতদের বেশিরভাগই তরুণ, যাদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে বিক্ষোভকারীদের ওপর মেশিনগান থেকে ব্রাশফায়ার করা হয়। সেখানে অন্তত ৩০ জন গুরুতর আহত হন, যাদের অনেকেই পরে মারা যান। শুক্রবার রাতেই হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে প্রকৃত তথ্য বাইরে না যায়।
টাইম ম্যাগাজিন বলছে, যদি এই মৃত্যুর সংখ্যা সত্য হয়, তবে এটি সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে সবচেয়ে ভয়াবহ দমন-পীড়নের ঘটনা। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়, বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করা হয়েছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে খামেনি সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই আন্দোলন ইতোমধ্যে ইরানের অন্তত ৩১টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরান ছাড়াও ইসফাহান, শিরাজ ও মাশহাদে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার রাতেও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।
তবে সব বাধা ও তথ্য গোপনের কারণে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে
টাইম ম্যাগাজিন।

