মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে ওমান থেকে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। এই সিদ্ধান্ত অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার (১৩ মার্চ) গভীর রাতে এক বিবৃতিতে জানায়, “অত্যাবশ্যক নয় এমন মার্কিন…
নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ওমান থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের চলে যেতে বলল যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে ওমান থেকে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। এই সিদ্ধান্ত অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার (১৩ মার্চ) গভীর রাতে এক বিবৃতিতে জানায়, “অত্যাবশ্যক নয় এমন মার্কিন সরকারি কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের” দ্রুত ওমান ছেড়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সাধারণত এমন নির্দেশ তখনই দেওয়া হয়, যখন সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা, সশস্ত্র সংঘাত বা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
বর্তমানে ওমানের জন্য মার্কিন ভ্রমণ সতর্কতা লেভেল ৩ পর্যায়ে রয়েছে, যার অর্থ ‘ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করুন’। এতে বোঝানো হয়েছে যে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ নয় এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়ানো উচিত। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সম্ভাব্য সহিংসতা এবং সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকিকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর জন্য সতর্কতা আরও কঠোর। ওই অঞ্চলগুলো এখনো লেভেল ৪ পর্যায়ে রয়েছে, যা সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে বিবেচিত। এর অর্থ হলো—“ভ্রমণ করবেন না।” সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাত এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ওমান সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের তুলনামূলক শান্ত ও স্থিতিশীল দেশ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি আঞ্চলিক কূটনীতিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে এবং বড় ধরনের সহিংসতা থেকে অনেকটাই দূরে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় দেশটির নিরাপত্তা পরিবেশও চাপের মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ মূলত প্রতিরোধমূলক। অর্থাৎ, কোনো বড় ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকি কমাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। বিদেশে অবস্থানরত সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যে কোনো দেশের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, বিশেষ করে সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে।
এদিকে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় কূটনৈতিক মিশনগুলোও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলেও সতর্ক সংকেত স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দেয় যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাস্তব এবং তা দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি উন্নত হলে নির্দেশনা পরিবর্তন করা হতে পারে, তবে আপাতত সতর্ক অবস্থানই বজায় রাখা হচ্ছে।

