Donald Trump delivers a strong warning to European leaders over the Greenland ownership issue during the World Economic Forum in Davos.

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে স্পষ্ট করে দিয়েছেন—এই ইস্যুতে বিরোধিতা করলে তার পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে দেওয়া দীর্ঘ বক্তব্যে ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের একাধিকবার কটাক্ষ করেন এবং ন্যাটোর ভূমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ…

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপকে ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি, উত্তপ্ত কূটনৈতিক অঙ্গন

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে স্পষ্ট করে দিয়েছেন—এই ইস্যুতে বিরোধিতা করলে তার পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে দেওয়া দীর্ঘ বক্তব্যে ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের একাধিকবার কটাক্ষ করেন এবং ন্যাটোর ভূমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেন।


ট্রাম্প তার বক্তব্যে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের অধিকার, মালিকানা এমনকি নাম পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত। যদিও তিনি দাবি করেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবেন না। তবে কূটনৈতিক চাপ ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে ইউরোপকে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। ট্রাম্প ন্যাটোকে আহ্বান জানান, ডেনমার্ক যেন গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয় এবং এতে জোট কোনো বাধা সৃষ্টি না করে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইউরোপীয় মিত্ররা চাইলে এই প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ বলতে পারে—তাতে যুক্তরাষ্ট্র কৃতজ্ঞ থাকবে। কিন্তু কেউ যদি ‘না’ বলে, তাহলে সেটি ভবিষ্যতে মনে রাখা হবে। তার এই বক্তব্যকে অনেকেই সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘ বক্তৃতায় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি চাঙা করা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কথা বললেও মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইউরোপ ও বিভিন্ন দেশের প্রতি তার অসন্তোষ।


ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ইউরোপজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আটটি দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা একটি ভুল সিদ্ধান্ত। তিনি সতর্ক করে বলেন, এতে উভয় পক্ষই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আরও কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, প্রয়োজন হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অস্ত্র ব্যবহার করতে প্রস্তুত। তিনি এই অস্ত্রকে বাণিজ্যিক ‘বাজুকা’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব ও ডেনমার্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আন্দার্স ফগ রাসমুসেন মন্তব্য করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তোষামোদ করার সময় শেষ হয়ে গেছে। তার মতে, ইউরোপের এখন আরও দৃঢ় ও কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, এখনই সময় ট্রাম্পের চাপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর।


বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যু শুধু একটি ভূখণ্ডগত প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভূরাজনীতি, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্বার্থ। আর্কটিক অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নতুন নয়, তবে ট্রাম্পের প্রকাশ্য হুমকি ইউরোপ-আমেরিকা সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে। সামনে এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব রাজনীতি।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *