Tarique Rahman at his in-laws historic house in Sylhet with traditional decorations and local reception

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাহিমপুর গ্রাম—একটি ঐতিহ্যবাহী নাম, একটি ইতিহাসের সাক্ষী। এই গ্রামেই অবস্থিত বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর সেই ঐতিহাসিক বাড়িতে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও আবেগঘন আয়োজন। বিরাহিমপুরের এই বাড়িটি শুধু একটি পারিবারিক আবাসন নয়, বরং ব্রিটিশ আমল থেকে…

শ্বশুরবাড়িতে তারেক রহমান-ঐতিহ্য, আবেগ আর রাজনৈতিক ইতিহাসে ঘেরা এক অনন্য আয়োজন

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাহিমপুর গ্রাম—একটি ঐতিহ্যবাহী নাম, একটি ইতিহাসের সাক্ষী। এই গ্রামেই অবস্থিত বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর সেই ঐতিহাসিক বাড়িতে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও আবেগঘন আয়োজন।


বিরাহিমপুরের এই বাড়িটি শুধু একটি পারিবারিক আবাসন নয়, বরং ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা এক ঐতিহ্যের ধারক। প্রায় ১১০ বিঘা জমির ওপর বিস্তৃত এ বাড়ির ভেতরে রয়েছে শতবর্ষী প্রাচীন দিঘি ‘আবিদ সাগর’। পরিবারের পূর্বপুরুষ আবিদ আলী খানের নামানুসারেই দিঘিটির নামকরণ। ১৯৩৩ সালে আসাম প্যাটার্নে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি আজও ইতিহাসের নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।


এই পরিবারের ইতিহাস যেমন গৌরবময়, তেমনি বৈচিত্র্যময়। খান বাহাদুর ডা. আসাদ্দর আলী খান ছিলেন তৎকালীন আসাম প্রদেশের সিভিল সার্জন। গজনফর আলী খান ব্রিটিশ আমলের একজন প্রখ্যাত আইসিএস কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি সিআইই ও ওবিই খেতাবে ভূষিত হন। এমনকি পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, এই বংশের একজন পূর্বসূরি ছিলেন ব্রিটেনের প্রথম রানি এলিজাবেথের ব্যক্তিগত চিকিৎসক।


পরবর্তী প্রজন্মেও এই পরিবারের পরিচিতি বিস্তৃত। সাবেক বিচারপতি ব্যারিস্টার আহমদ আলী খান, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আইরিন খান—সবাই এই পরিবারের অংশ। আইরিন খান বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের চাচাতো বোন।
সময় ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবারের অধিকাংশ সদস্য দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকলেও তারেক রহমানের আগমনের খবরে অনেকেই দেশে ফিরেছেন। কয়েকদিন ধরে প্রায় অর্ধশত শ্রমিক বাড়ির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। নতুন গেট, রঙিন আলোকসজ্জা, পার্কিং ব্যবস্থা—সবকিছুতেই ছিল প্রস্তুতির ছাপ।


জামাই ও অতিথিদের আপ্যায়নে বুধবার দুপুর থেকেই শুরু হয় রান্নাবান্না। প্রায় ৪০টি বড় ডেকচিতে তেহারি রান্না করেন অভিজ্ঞ বাবুর্চিরা। পুরো আয়োজন তদারকি করেন ডা. জোবাইদা রহমানের চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলী খান। তিনি জানান, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অতীতে পারিবারিক সম্পর্ক প্রকাশ্যে আনা সম্ভব হয়নি, তবে সম্পর্ক সবসময় অটুট ছিল।


ডা. জোবাইদা রহমানের বাবা প্রয়াত রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ছিলেন নৌবাহিনীর প্রধান ও মন্ত্রী—একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তারেক রহমান ও ডা. জোবাইদা রহমানের বিয়ের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সঙ্গে জিয়া পরিবারের আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
প্রসঙ্গত, ডা. জোবাইদা রহমান ১৯৭২ সালে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে তিনি সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে লন্ডনে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে ২০২৫ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন।


সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, ২০০৪ সালে প্রথমবার শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ২১ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো তার আগমন দক্ষিণ সুরমাবাসীর জন্য এক আবেগঘন মুহূর্ত। বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, এই সফর শুধু পারিবারিক নয়—রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *