Iran protest amid rising US-Iran tensions as Saudi Arabia denies airspace for military action

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন মাত্রা পাওয়ার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরব। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কোনো সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যেন সৌদি আরবের আকাশসীমা কিংবা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না পারে—সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে রিয়াদ। সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সৌদি আরব…

ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার করতে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন মাত্রা পাওয়ার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরব। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কোনো সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যেন সৌদি আরবের আকাশসীমা কিংবা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না পারে—সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে রিয়াদ। সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সৌদি আরব সরাসরি ইরানকে অবহিত করেছে যে, তেহরানের বিরুদ্ধে নেওয়া কোনো সামরিক পদক্ষেপে তারা অংশ নেবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ কোনো দেশকে সৌদি ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলার অনুমতিও দেওয়া হবে না। এই বার্তাটি কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।


সম্প্রতি ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে জানায়, পরিস্থিতির জবাবে তারা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। এই মন্তব্যের পরই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, নতুন কোনো সামরিক হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও নৌসম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করবে।
এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের এই অবস্থান আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এএফপিকে জানায়, ‘সৌদি আরব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপের অংশ তারা হবে না এবং এ ধরনের অভিযানের জন্য তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।’ সরকারের ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্রও একই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। এসব ঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কৌশলগত অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। তবে সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রিয়াদের এই অবস্থান একদিকে যেমন আঞ্চলিক সংঘাত এড়ানোর প্রচেষ্টা, অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে রাখার কৌশলও বটে। মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব বৈশ্বিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে—এই আশঙ্কাও সৌদি অবস্থানের পেছনে কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।


বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও সৌদি আরবের কূটনৈতিক তৎপরতা কোন দিকে মোড় নেয়, সেটির দিকেই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *