মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে Benjamin Netanyahu–কে লক্ষ্য করে সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়েছে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)। ইরানের এই এলিট সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা পূর্ণ শক্তি দিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর পিছু ধাওয়া করে তাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইরানের সরকারি প্ল্যাটফর্ম ‘সেপাহ নিউজ’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি…
নেতানিয়াহুকে ধাওয়া করে হত্যার হুঁশিয়ারি দিল আইআরজিসি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে Benjamin Netanyahu–কে লক্ষ্য করে সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়েছে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)। ইরানের এই এলিট সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা পূর্ণ শক্তি দিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর পিছু ধাওয়া করে তাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইরানের সরকারি প্ল্যাটফর্ম ‘সেপাহ নিউজ’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, নেতানিয়াহু বেঁচে থাকলে তাকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই আঘাত হানা হবে। বিবৃতিতে তাকে “শিশু হত্যাকারী অপরাধী” হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর ভাষায় প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, দুই দেশের সংঘাত এখন ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও প্রতিশোধমূলক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই হুমকির প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে Israel এবং United States ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালায় বলে জানা গেছে। ওই হামলায় ইরানে বিপুল প্রাণহানি ঘটে—নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, আহত হয়েছেন আরও এক হাজারের বেশি মানুষ।
সংঘাতের প্রথম ধাপেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তার মৃত্যুর পর দেশের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আসে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তার দ্বিতীয় পুত্র Mojtaba Khamenei। এই পরিবর্তন ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নীতিতে কঠোর অবস্থান আরও জোরদার করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এদিকে The Guardian–এর লাইভ প্রতিবেদনে আইআরজিসির হুমকির বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুকে নিশানা করার বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং তা সামরিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সরাসরি হত্যার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। কারণ রাষ্ট্রপ্রধান বা শীর্ষ নেতাকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্য হুমকি আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য গুরুতর সংকেত বহন করে। এতে শুধু ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়ে।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ বড় আকারের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বশক্তিগুলোও পরিস্থিতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে, কারণ এই সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে আইআরজিসির এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটকে আরও গভীর করেছে। নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা জোরদার করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, আর আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়াতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে—সংঘাত দ্রুত থামার কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

