সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই সিরাজগঞ্জে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের সঙ্গে তীব্র শীতে কাঁপছে যমুনা পাড়ের এই জেলা। সোমবার সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র শীতের প্রভাবে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে গেছে। কনকনে ঠান্ডায় নিম্ন আয়ের মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। কৃষকরাও ক্ষেতে গিয়ে ফসলের…
তীব্র শীতে কাঁপছে সিরাজগঞ্জ, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৫ ডিগ্রি
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই সিরাজগঞ্জে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের সঙ্গে তীব্র শীতে কাঁপছে যমুনা পাড়ের এই জেলা। সোমবার সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তীব্র শীতের প্রভাবে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে গেছে। কনকনে ঠান্ডায় নিম্ন আয়ের মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। কৃষকরাও ক্ষেতে গিয়ে ফসলের পরিচর্যা করতে পারছেন না, ফলে ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা।
শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। হাসপাতালে অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কাজ বন্ধ থাকায় অনেক দরিদ্র পরিবারে চরম আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে শীতবস্ত্রের তীব্র অভাব অনুভূত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দে পাওয়া কম্বল প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, সোমবার সকালে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে বাঘাবাড়ী আবহাওয়া অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রিকশাচালক আব্দুল করিম বলেন, “এই শীতে রিকশা চালানো খুব কষ্টকর। হাত-পা অবশ হয়ে আসে। পেটের তাগিদে বের হলেও যাত্রী পাওয়া যায় না।”
বাজারস্টেশন এলাকার এক কাঁচামাল বিক্রেতা জানান, দিনের বেলাতেও শীত সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল বাছেত জানান, এ পর্যন্ত ৬ থেকে ৭ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরও কম্বলের বরাদ্দ পাওয়া গেছে, শিগগিরই তা বিতরণ করা হবে।
সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমিন বলেন,
“জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়াই ভালো। বাইরে বের হলে গরম কাপড় পরতে হবে, না হলে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।”

