ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং তা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সম্ভাব্য হুমকিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর এবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল তেহরান। ইরান স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালায়, তবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ আঞ্চলিক দেশগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক…

সৌদি, আমিরাত ও তুরস্কে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং তা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সম্ভাব্য হুমকিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর এবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল তেহরান। ইরান স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালায়, তবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ আঞ্চলিক দেশগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে।


বুধবার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান বলে উল্লেখ করেছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল। ওই কর্মকর্তা বলেন, তেহরান ইতোমধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ একাধিক আঞ্চলিক দেশকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে অবহিত করেছে। তাদের জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মাটিতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো নিরাপদ থাকবে না।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ইরান এসব দেশকে অনুরোধ করেছে যেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। তেহরানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা শুধু ইরানের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।


এদিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে দেশটির প্রশাসন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ২৬ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড বুধবারের মধ্যেই কার্যকর হতে পারে।


এরফান সোলতানিকে গত বৃহস্পতিবার তেহরানের উত্তর-পশ্চিম উপকণ্ঠের শহর কারাজ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার বিচার সম্পন্ন করা হয় এবং তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করে বলেছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ আবারও ‘ভিন্নমত দমন’ ও জনগণের মধ্যে ভয় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দ্রুত বিচার ও নির্বিচার মৃত্যুদণ্ডের পথ বেছে নিতে পারে। সংস্থাটির সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, ১১ জানুয়ারি এরফান সোলতানির পরিবারকে জানানো হয় যে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৮ জানুয়ারি থেকে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না


বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা যদি আরও বাড়ে, তবে এর প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এই উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে। এমন পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধান ছাড়া সংঘাত এড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *