Rumin Farhana speaking about her expulsion from BNP in a television talk show

বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তার দাবি, দলের বড় নেতাদের তুলনায় নিজের জনপ্রিয়তাই শেষ পর্যন্ত তার জন্য ‘কাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। আলোচনায় তিনি জানান, দলের ভেতরে তার প্রতি বিরূপ মনোভাব অনেক আগে থেকেই তৈরি হচ্ছিল। বিশেষ…

জনপ্রিয়তাই কাল হয়ে দাঁড়ায়: বহিষ্কার নিয়ে রুমিন ফারহানার খোলামেলা বক্তব্য

বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তার দাবি, দলের বড় নেতাদের তুলনায় নিজের জনপ্রিয়তাই শেষ পর্যন্ত তার জন্য ‘কাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। আলোচনায় তিনি জানান, দলের ভেতরে তার প্রতি বিরূপ মনোভাব অনেক আগে থেকেই তৈরি হচ্ছিল। বিশেষ করে যখন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে থাকেন, তখনই পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়।


রুমিন ফারহানার ভাষায়, দলের কিছু নেতাকর্মী তার জনপ্রিয়তাকে ভালোভাবে নেননি। তিনি মনে করেন, যেসব নেতা পদে বড় ছিলেন কিন্তু জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে ছিলেন, তাদের মধ্যে এক ধরনের হিংসা কাজ করত। সেই কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়।


বহিষ্কারের সময়কাল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যেদিন খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়, সেদিনই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি বলেন, সকাল ৬টার দিকে খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘটে এবং বিকাল ৪টার মধ্যে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তার মতে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও মূল কারণ ছিল তার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা।


তিনি আরও জানান, তখনও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য ১০-১৫ দিন সময় বাকি ছিল। কিন্তু সেই সময়টুকু পর্যন্ত অপেক্ষা না করে তড়িঘড়ি করে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা তাকে বিস্মিত করেছে।
দল থেকে বহিষ্কারের পর নিজের মানসিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে একটি ‘ব্যর্থ দলকে’ সমর্থন করার যে মানসিক চাপ ছিল, তা থেকে এখন তিনি মুক্তি

পেয়েছেন। টকশোতে বিভিন্ন সময় তাকে বিব্রতকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হতো, যা বহন করা সহজ ছিল না।
এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, দলের ভেতরের একটি অংশ থেকেও তাকে নিয়মিতভাবে অপমান ও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনেকেই বড় নেতাদের সন্তুষ্ট করতে তাকে আক্রমণ করত। তার দাবি, আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপির নিজস্ব অনলাইন গ্রুপ থেকেও তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন।


সবশেষে রুমিন ফারহানা বলেন, দল থেকে বেরিয়ে আসার পর তিনি যেন এক ধরনের স্বস্তি অনুভব করছেন। দীর্ঘদিনের চাপ, সমালোচনা এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকে মুক্তি পেয়ে এখন তিনি নিজেকে অনেকটা হালকা মনে করছেন।
প্রসঙ্গত, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। একই দিনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রুমিন ফারহানাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন, যা এই বহিষ্কারের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *