রূপসাটিভি/আন্তর্জাতিক ডেস্ক বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে ইরান। দেশটি এই প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর টোল বা ট্রানজিট ফি আরোপের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে তাদের একজন সংসদ সদস্য। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পার্লামেন্টে এ বিষয়ে একটি বিল নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব দেশ এই…
হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের চিন্তা ইরানের, বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা
রূপসাটিভি/আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে ইরান। দেশটি এই প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর টোল বা ট্রানজিট ফি আরোপের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে তাদের একজন সংসদ সদস্য।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পার্লামেন্টে এ বিষয়ে একটি বিল নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব দেশ এই প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি, পণ্য কিংবা খাদ্য পরিবহন করে, তাদেরকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিতে হতে পারে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায়, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে তেহরান। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এর সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে চাপ প্রয়োগের একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সংঘাত শুরুর পর থেকেই ইরান এই প্রণালিতে চলাচলকারী কিছু জাহাজের গতিবিধিতে বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে যেসব জাহাজকে তারা প্রতিপক্ষ বা তাদের মিত্রদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মনে করে, সেগুলোর ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে। এতে করে আন্তর্জাতিক শিপিং ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ হলে হরমুজ প্রণালির জন্য একটি নতুন নীতিমালা চালু করা হতে পারে। সেই নীতিমালার আওতায় যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ তৈরি হবে। অর্থাৎ, কেবল অর্থ আদায়ই নয়, বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবেও এই প্রণালিকে ব্যবহার করতে পারে তেহরান।
এদিকে, দেশটির প্রভাবশালী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোখবার মন্তব্য করেছেন, হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব ব্যবহার করে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর পাল্টা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সম্ভব। এমনকি প্রয়োজনে তাদের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওপর এই ধরনের ঘোষণার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই রুটে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা দ্রুতই তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে এবং অনেক দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

