বাংলার জনকণ্ঠ ডিজিটাল ডেস্কইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও তা ঘিরে আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক নতুন করে চরম উত্তেজনার দিকে এগোচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একটি ব্যঙ্গাত্মক ও প্রতীকী কার্টুন পোস্ট করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) খামেনির অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত এই…
ট্রাম্পকে ‘স্বৈরাচারী ফেরাউন’ আখ্যা দিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন পোস্ট করলেন খামেনি
বাংলার জনকণ্ঠ ডিজিটাল ডেস্ক
ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও তা ঘিরে আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক নতুন করে চরম উত্তেজনার দিকে এগোচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একটি ব্যঙ্গাত্মক ও প্রতীকী কার্টুন পোস্ট করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) খামেনির অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত এই পোস্ট ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পোস্ট করা কার্টুনে ট্রাম্পকে প্রাচীন মিশরের মমি সংরক্ষণের কফিন—সারকোফ্যাগাসের ভেতরে একটি ভঙ্গুর মূর্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পটভূমিতে দেখা যায় পিরামিড ও দেয়ালে খোদাই করা প্রাচীন মিশরীয় হায়ারোগ্লিফিক লিপি। প্রতীকের মাধ্যমে ট্রাম্পকে ইতিহাসের স্বৈরশাসক ফেরাউন ও নমরুদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যাদের পরিণতি হয়েছিল ক্ষমতা থেকে অপমানজনক পতন।
কার্টুনের সঙ্গে দেওয়া বার্তায় খামেনি দাবি করেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—অত্যাচারী শাসকের ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। ফেরাউন, নমরুদ কিংবা ইরানের সাবেক পাহলভি রাজবংশের রেজা শাহ ও মোহাম্মদ রেজা শাহ ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও শেষ পর্যন্ত জনগণের রোষ ও সময়ের বিচারে উৎখাত হয়েছেন। অহংকার ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলে বর্তমান শাসকরাও একই পরিণতির মুখোমুখি হবেন বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পোস্টটি মূলত ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক বক্তব্যের সরাসরি প্রতিক্রিয়া। সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের জনগণের ‘মুক্তি’ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এমন বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে তেহরান।
উল্লেখ্য, গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ দাবি করেছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমা দেশগুলো ইরান সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা, কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিংবা সীমিত সামরিক অভিযানের মতো একাধিক বিকল্প নিয়ে সক্রিয়ভাবে ভাবছে।
অন্যদিকে, তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হামলা চালালে তার কঠোর ও সমন্বিত জবাব দেওয়া হবে। ফলে খামেনির এই প্রতীকী কার্টুন পোস্ট শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতেরই প্রতিফলন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং খামেনির প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা বাড়াতে পারে। এখন দেখার বিষয়, তেহরানের এই কড়া বার্তার জবাবে ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটে, নাকি পরিস্থিতি আরও সংঘাতের দিকে মোড় নেয়।
সূত্র: বিবিসি

