রূপসাটিভি/আন্তর্জাতিক ডেস্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এবং বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধ বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড অচল হয়ে ফেরত যাচ্ছে। ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালানোর জন্য এটি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু লোহিত সাগরে পৌঁছানোর আগেই জাহাজটি নানা প্রযুক্তিগত সমস্যায় ভুগতে শুরু করে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অতি আধুনিক রণতরীকে সাময়িকভাবে গ্রিসের ক্রেট দ্বীপের সৌদা বে বন্দরে নিয়ে যাওয়ার…
অচল হয়ে ফিরে যাচ্ছে মার্কিন বৃহত্তম রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড
রূপসাটিভি/আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এবং বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধ বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড অচল হয়ে ফেরত যাচ্ছে। ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালানোর জন্য এটি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু লোহিত সাগরে পৌঁছানোর আগেই জাহাজটি নানা প্রযুক্তিগত সমস্যায় ভুগতে শুরু করে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অতি আধুনিক রণতরীকে সাময়িকভাবে গ্রিসের ক্রেট দ্বীপের সৌদা বে বন্দরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জেরাল্ড আর ফোর্ড দীর্ঘ ৯ মাস ধরে মোতায়েন রয়েছে। এর আগে এটি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিয়েছিল। এত দীর্ঘ সময়ের মোতায়েনের কারণে নাবিকদের মনোবল এবং জাহাজের যুদ্ধ প্রস্তুতির প্রশ্ন উঠেছে। কর্মকর্তাদের মতে, জাহাজে একটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যার কারণে প্রায় ২০০ নাবিক ধোঁয়াজনিত অসুস্থতায় চিকিৎসা পেয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছিল এবং প্রায় ১০০টি থাকার জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এর ফলে মার্কিন নাবিকদের হোটেল রুমে ঘুমাতে বাধ্য হতে হয়েছে।
জাহাজে টয়লেট সিস্টেমও বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়। নাবিকদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয় এবং বাথরুম ব্যবহারে জটিলতা দেখা দেয়। এই সমস্যাগুলি প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও দ্য গার্ডিয়ান।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজটি বর্তমানে লোহিত সাগরে অবস্থান করছে। অগ্নিকাণ্ড ও প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানের জন্য এটি বর্তমানে বন্দরে ফিরে আসছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকায় জাহাজের যান্ত্রিক সিস্টেমে চাপ পড়েছে এবং নাবিকদের প্রশিক্ষণ ও মনোবল পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ রণতরীর অচল হওয়ার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন তেহরানের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়ে চলেছে। পূর্বের কয়েকদিনে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলায় ইরান কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ব্যক্তিদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জেরাল্ড আর ফোর্ডের অচল হওয়া সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্র নীতি ও মধ্যপ্রাচ্যে কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে।
জেরাল্ড আর ফোর্ড হলো মার্কিন নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক ও বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ। এটি অত্যাধুনিক লঞ্চ সিস্টেম, ফাইটার জেট বহন ক্ষমতা এবং উন্নত প্রযুক্তি সমন্বিত। তবে সাম্প্রতিক সমস্যাগুলি প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও দীর্ঘ সময় মোতায়েনের প্রভাব ফুটিয়ে তুলেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা আশা করছেন, গ্রিসে মেরামতের পর জাহাজটি আবার তার পূর্ণ ক্ষমতায় সমুদ্রে ফিরবে। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় যুদ্ধ মোতায়েন ও প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা নাবিকদের কর্মক্ষমতা ও নৌযুদ্ধ কৌশলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

