বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদ দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ কখনো একটি জাতিকে ভালো কিছু দিতে পারে না। তাই দেশকে এই অবস্থা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করতে হবে।শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে…
ফ্যাসিবাদ থেকে পুরোপুরি মুক্তি চাই: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদ দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ কখনো একটি জাতিকে ভালো কিছু দিতে পারে না। তাই দেশকে এই অবস্থা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করতে হবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ এই ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদ যে সময়েই আসুক না কেন, তা কখনো জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে জাতি ইতোমধ্যে দেখেছে যে ফ্যাসিবাদ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের মৌলিক অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। রাষ্ট্রের চারটি মূল স্তম্ভের মধ্যে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই স্তম্ভটি শক্তিশালী থাকলে রাষ্ট্রের বাকি তিনটি স্তম্ভও সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে।
জামায়াত আমির বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে অতীতে ফ্যাসিবাদের কারণে দেশের গণমাধ্যম তাদের কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন করতে পারেনি। অনেক ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত হয়ে পড়েছিল এবং জাতির প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছিল তা জাতির সামনে স্পষ্ট। তাকে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে আক্রমণ করে রক্তাক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া লেখক ও চিন্তাবিদ ফরহাদ মাজহারকে অপহরণ করার ঘটনাও ঘটেছিল।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এসব ঘটনার মূল উদ্দেশ্য ছিল গণমাধ্যমকে ভয় দেখানো এবং তাদের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দেওয়া। যাতে সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা বলা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, গণমাধ্যম জাতির বিবেক হিসেবে কাজ করে। তাই সাংবাদিকদের সবসময় সতর্ক থাকতে হবে এবং সত্য প্রকাশের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। একই সঙ্গে বিরোধী দলও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় পাহারাদার হিসেবে ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জামায়াত আমির বলেন, যদি সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তাহলে রাষ্ট্রের বাকি তিনটি স্তম্ভও সঠিক পথে পরিচালিত হবে। কিন্তু যদি এই স্তম্ভ দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনার পুরো কাঠামোই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী কখনো আপস করবে না। সরকার যদি দেশের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তারা সরকারের পাশে থাকবে। তবে যদি সরকার জাতীয় স্বার্থ থেকে বিচ্যুত হয়, তাহলে বিরোধী দল হিসেবে প্রয়োজন হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ আর কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ বা আধিপত্যবাদ দেখতে চায় না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ একটি ঐক্যবদ্ধ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। এছাড়া দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

