মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি যখন অস্থির, তখন প্রচলিত নিরাপদ বিনিয়োগ যেমন স্বর্ণ বা ডলারের পরিবর্তে নতুন এক ‘মুদ্রা’ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে—Bitcoin।Iran-এ মার্কিন-ইসরাইলি হামলা শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়। তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় শেয়ারবাজারে ধস নামে এবং বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে বিকল্প নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন। সাধারণত এ…
স্বর্ণ-ডলার নয়, যুদ্ধের বাজারে হঠাৎ উড়ছে বিটকয়েন
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি যখন অস্থির, তখন প্রচলিত নিরাপদ বিনিয়োগ যেমন স্বর্ণ বা ডলারের পরিবর্তে নতুন এক ‘মুদ্রা’ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে—Bitcoin।
Iran-এ মার্কিন-ইসরাইলি হামলা শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়। তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় শেয়ারবাজারে ধস নামে এবং বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে বিকল্প নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন।
সাধারণত এ ধরনের সংকটে বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দ থাকে স্বর্ণ বা মার্কিন ডলার। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ব্যতিক্রম। এই দুই ঐতিহ্যবাহী সম্পদকে ছাড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়ছে বিটকয়েন।
তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিটকয়েনের মূল্য ৭২ হাজার ডলার অতিক্রম করে। পরবর্তীতে এটি ৭৪ হাজার ডলারও ছাড়িয়ে যায়। একই সঙ্গে ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা যত বাড়ছে, ততই ডিজিটাল সম্পদের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কারণ, বিটকয়েন কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সরকারের নিয়ন্ত্রণে নয় এবং এটি সহজেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তর করা যায়।
একজন বিশ্লেষকের মতে, “যুদ্ধ বা সংকটের সময় পুঁজি স্থানান্তরের স্বাধীনতা খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিটকয়েন সেই সুবিধা দেয়, যা প্রচলিত সম্পদ দিতে পারে না।”
তবে সব বিশেষজ্ঞ একমত নন। অনেকেই এখনও মনে করেন, বিটকয়েন অত্যন্ত অস্থির এবং এটি স্বর্ণের মতো স্থিতিশীল ‘নিরাপদ আশ্রয়’ নয়।
তারপরও সাম্প্রতিক প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতে বড় সংকটের সময় বিনিয়োগকারীদের আচরণ বদলে যেতে পারে। বিশেষ করে তরুণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রতি আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু রাজনৈতিক বা সামরিক দিক থেকেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। আর সেই বাস্তবতায় বিটকয়েন এখন এক নতুন ‘নিরাপদ সম্পদ’ হিসেবে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে রয়েছে।

