সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উদ্দেশে সরাসরি ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এখনই শেষ হওয়া প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে তিনি পুতিনকে পরিষ্কারভাবে নিজের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ডাভোসে ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক…
জেলেনস্কির সঙ্গে ডাভোস বৈঠকের পর পুতিনকে কড়া বার্তা দিলেন ট্রাম্প
সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উদ্দেশে সরাসরি ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এখনই শেষ হওয়া প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে তিনি পুতিনকে পরিষ্কারভাবে নিজের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ডাভোসে ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনাটি “ভালো” হয়েছে। তবে আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়েছে কি না—সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তার ও জেলেনস্কির প্রায় ষষ্ঠ সরাসরি সাক্ষাৎ।
ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেন সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, মার্কিন বিশেষ দূতরা একই দিন মস্কোতে আলোচনার জন্য যাচ্ছেন, যা চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ।
পুতিনের উদ্দেশে তার বার্তা কী—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প সংক্ষেপে বলেন, “যুদ্ধ শেষ হতে হবে।” এর আগের দিনও তিনি দাবি করেছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তবে বাস্তবতায় এখনো রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধে স্পষ্ট কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের অর্থায়ন সংক্রান্ত কোনো চুক্তির বাস্তব সম্ভাবনা থাকলেই তিনি ডাভোসে অংশ নেবেন। কিন্তু বৈঠকের পরপরই বড় ধরনের কোনো সমঝোতার ঘোষণা না আসায় বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করেছেন এবং যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে সমালোচকদের মতে, এই নীতিতে ইউক্রেনের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত হবে—সে প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে।
এদিকে ইউক্রেনে চলমান রুশ বিমান হামলায় রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শীতকালীন এই সংকটের মধ্যেই ডাভোস সফরে যান জেলেনস্কি। বৈঠক শেষে তিনি একটি বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ইউক্রেন বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ডাভোসে এক অধিবেশনে বলেন, যদি উভয় পক্ষ প্রকৃতভাবে সমাধান চায়, তাহলে শান্তিচুক্তি সম্ভব। তার ভাষায়, “আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছি।”
সব মিলিয়ে ডাভোস বৈঠক ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করলেও বাস্তব সমাধান এখনো অনেকটাই কূটনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে।

