Damage in Israeli cities after joint Iran and Hezbollah missile attacks, with emergency teams responding to fires and debris.

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে। নতুন করে ইসরাইল-এর বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে ইরান এবং হিজবুল্লাহ। সর্বশেষ এই হামলায় বেশ কয়েকটি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, যা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উদ্বেগের মুখে ফেলেছে। উত্তরের আপার গ্যালিলি অঞ্চলে আঘাত হানে হামলার একটি বড় অংশ। লেবানন সীমান্তের নিকটবর্তী হওয়ায় এই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই হিজবুল্লাহর রকেট…

ইসরাইলে নতুন করে ইরান-হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা, বিভিন্ন শহরে ক্ষয়ক্ষতি

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে। নতুন করে ইসরাইল-এর বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে ইরান এবং হিজবুল্লাহ। সর্বশেষ এই হামলায় বেশ কয়েকটি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, যা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উদ্বেগের মুখে ফেলেছে।


উত্তরের আপার গ্যালিলি অঞ্চলে আঘাত হানে হামলার একটি বড় অংশ। লেবানন সীমান্তের নিকটবর্তী হওয়ায় এই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই হিজবুল্লাহর রকেট হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। সীমান্তবর্তী হওয়ার কারণে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপও বেশি থাকে, ফলে কিছু হামলা প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এর আগে মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলেও বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। লড শহরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। দক্ষিণের নেগেভ মরুভূমির একটি বেদুইন গ্রামেও ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে, যেখানে বসতবাড়ি ও অবকাঠামো আংশিক ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে।


মধ্যাঞ্চলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি শোহাম শহরেও হামলার প্রভাব পড়েছে। সেখানে একটি ভবনে আগুন লাগলে অন্তত ৩০ জন বাসিন্দাকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে।
তেল আবিবের দক্ষিণে অবস্থিত রিশোন লেজিয়ন শহরের একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর একটি অবিস্ফোরিত প্রজেক্টাইল রাস্তার মধ্যে গেঁথে থাকতে দেখা যায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে রেখে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার কাজ শুরু করে। এছাড়াও হোলোন ও ইয়েহুদ শহরেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।


বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলোর বেশিরভাগই ইরানের ক্লাস্টার মিসাইল ব্যবহার করে চালানো হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবে এই ধরনের মিসাইল ছোড়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। ক্লাস্টার মিসাইল বিস্তৃত এলাকায় ছোট ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে দেয়, যা একই সঙ্গে বহু স্থানে ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে সক্ষম। প্রতিটি ক্ষুদ্র বোমায় প্রায় আড়াই কিলোগ্রাম বিস্ফোরক থাকতে পারে, ফলে একটি মিসাইল থেকে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।


ইসরাইলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক হামলা প্রতিহত করতে পারলেও সবগুলো আটকানো সম্ভব হয় না। বিশেষ করে ক্লাস্টার ধরনের অস্ত্র বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় তা থামানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহলও পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে। নতুন করে সংঘাত বাড়লে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *