Global warming impact illustration showing rising temperature and climate change effects

জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি বর্তমান বিশ্বের একটি বাস্তব ও গভীর সংকট। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) প্রকাশিত Emissions Gap Report 2025 অনুযায়ী, আগামী এক দশকের মধ্যেই বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা অতিক্রম করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পূর্বাভাস প্রত্যাশিত হলেও এর ভয়াবহতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রিপোর্টে…

আগামী এক দশকে ১.৫ ডিগ্রি সীমা ছাড়াতে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা: সতর্ক করছে জাতিসংঘ

জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি বর্তমান বিশ্বের একটি বাস্তব ও গভীর সংকট। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) প্রকাশিত Emissions Gap Report 2025 অনুযায়ী, আগামী এক দশকের মধ্যেই বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা অতিক্রম করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পূর্বাভাস প্রত্যাশিত হলেও এর ভয়াবহতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।


রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ দুই শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রধান কারণ জীবাশ্ম জ্বালানির অব্যাহত ব্যবহার। কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বর্তমানে গত ২০ লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। এই অতিরিক্ত গ্যাস পৃথিবীর চারপাশে একটি তাপধারণকারী স্তর তৈরি করছে, যার ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে।


ইউএনইপির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দেশগুলো যদি তাদের ঘোষিত জলবায়ু প্রতিশ্রুতি শতভাগ বাস্তবায়নও করে, তবুও এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ২ দশমিক ৩ থেকে ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এর অর্থ হলো, প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে নির্ধারিত নিরাপদ সীমা অতিক্রম করার ঝুঁকি প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠছে।


এই সীমা অতিক্রম করলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও তীব্র হবে। খরা, বন্যা, তাপপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউএনইপির জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের প্রধান মার্টিন ক্রাউসে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেওয়া সতর্কতার পরও বিশ্ব রেকর্ড পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ অব্যাহত রেখেছে। তাই প্রতিবেদনের ফলাফল অপ্রত্যাশিত নয়, তবে এটি মানবজাতির জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত।


বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো একক বছরে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা অতিক্রম করা চূড়ান্ত ব্যর্থতা নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি গড় তাপমাত্রাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক। নতুন রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই দীর্ঘমেয়াদি গড় তাপমাত্রাই আগামী দশ বছরের মধ্যেই ১.৫ ডিগ্রি সীমা ছাড়াতে পারে।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে রাখতে হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক নিঃসরণ প্রায় ৫৫ শতাংশ কমাতে হবে। এমনকি ২ ডিগ্রি সীমা ধরে রাখতে হলেও নিঃসরণ কমাতে হবে অন্তত ৩৫ শতাংশ। কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি এই লক্ষ্যমাত্রার অনেক নিচে রয়েছে।
ইউএনইপি জোর দিয়ে বলেছে, এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত—এই সীমা অতিক্রম যত কম সময়ের জন্য হয়, তা নিশ্চিত করা। কারণ তাপমাত্রা যত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে, মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও প্রকৃতি তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোর সংস্কার জরুরি।
আশার দিক হলো, প্যারিস চুক্তির পর গত এক দশকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এর খরচও কমেছে। ইউএনইপির ভাষায়, প্রযুক্তি ও জ্ঞান আমাদের হাতে আছে—এখন প্রয়োজন কেবল শক্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *