সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাসাকা প্রদেশ আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখে পড়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) পরিচালিত একটি আত্মঘাতী ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে বিশজন। এই হামলার ঘটনাটি সিরিয়ায় চলমান ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়াকে নতুন করে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সিরিয়ার প্রতিরক্ষা…
সিরিয়ার হাসাকায় এসডিএফের আত্মঘাতী ড্রোন হামলা: নিহত ৭ সেনা, যুদ্ধবিরতি ভাঙার অভিযোগ
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাসাকা প্রদেশ আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখে পড়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) পরিচালিত একটি আত্মঘাতী ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে বিশজন। এই হামলার ঘটনাটি সিরিয়ায় চলমান ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়াকে নতুন করে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে। বিবৃতিতে জানানো হয়, হাসাকা প্রদেশের আল-ইয়ারুবিয়াহ সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছে অবস্থিত একটি গোলাবারুদের ডিপোকে লক্ষ্য করে এসডিএফ এই ড্রোন হামলা চালায়। হামলার তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই সাতজন সেনাসদস্য প্রাণ হারান এবং গুরুতর আহত সেনাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই হামলার সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, ঘটনার মাত্র একদিন আগেই সিরিয়ার প্রেসিডেন্সি হাসাকা প্রদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এসডিএফের সঙ্গে একটি ‘পারস্পরিক সমঝোতায়’ পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছিল। এমন প্রেক্ষাপটে এই আক্রমণ শান্তি আলোচনার ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার বরাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, হামলার আগে সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট আল-ইয়ারুবিয়াহ সীমান্তের নিকটবর্তী একটি গোপন কর্মশালার সন্ধান পায়। সেখানে ড্রোন তৈরির যন্ত্রপাতি এবং ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) প্রস্তুতের সরঞ্জাম পাওয়া যায়। মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, ওই স্থানে কয়েকটি ইরানি তৈরি ড্রোনও মজুত ছিল, যা এসডিএফ ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল।
সেনাবাহিনী যখন ওই এলাকা নিরাপদ করতে তল্লাশি অভিযান শুরু করে, ঠিক তখনই এসডিএফ একটি আত্মঘাতী ড্রোন পাঠিয়ে সেনা অবস্থানে আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
সিরীয় সেনাবাহিনীর অপারেশন কমান্ড এই হামলাকে ‘বিপজ্জনক উসকানি’ এবং চলমান যুদ্ধবিরতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে এসডিএফ ও সিরীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে চার দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
তবে সেনাবাহিনীর অভিযোগ, এসডিএফ এই যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করে ড্রোন ও কামানের মাধ্যমে সেনা ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এই ড্রোন হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিরীয় সেনাবাহিনী হাসাকা সীমান্তজুড়ে তাদের সামরিক অবস্থান জোরদার করেছে। পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দমন অভিযানের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানিয়েছে সামরিক সূত্র।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে চলমান শান্তি উদ্যোগকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে এবং ভবিষ্যতে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

