ফিলিস্তিনের গাজা পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গাজায় প্রস্তাবিত জাতিসংঘ অনুমোদিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তিনি। এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ফরাসি নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এবং ফ্রান্সের ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০…
ম্যাক্রোঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুমকি ট্রাম্পের
ফিলিস্তিনের গাজা পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গাজায় প্রস্তাবিত জাতিসংঘ অনুমোদিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তিনি। এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ফরাসি নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এবং ফ্রান্সের ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত কমে যাচ্ছে এবং খুব শিগগিরই তিনি ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য হবেন। ট্রাম্প বলেন, ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বে ফ্রান্সের প্রভাব প্রায় শেষের পথে এবং তার বিরুদ্ধে জনসমর্থনও ক্ষয়িষ্ণু।
ট্রাম্প আরও বলেন, যদি ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি উদ্যোগে শত্রুতামূলক মনোভাব অব্যাহত রাখে, তবে তিনি ফ্রান্সের প্রধান রপ্তানি পণ্য—বিশেষ করে ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। তার ভাষায়, এমন সিদ্ধান্ত নিলে ফ্রান্সকে অর্থনৈতিকভাবে বড় মূল্য দিতে হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, এই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত বোর্ড অব পিসে যোগ দিতে বাধ্য হবে। তবে না যোগ দিলেও যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ফ্রান্সের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তৃতীয়বার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের মে মাসে। তবে ট্রাম্প যে ‘ক্ষমতাচ্যুত’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তা ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে বলেছেন—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ গত বছরের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা। এই বোর্ডে অংশগ্রহণের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিতদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের মতো দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।
এদিকে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠছে। সম্প্রতি ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর আপত্তি উপেক্ষা করেই যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেবে। তার মতে, এটি ‘বিশ্ব নিরাপত্তার’ স্বার্থে প্রয়োজনীয়।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সমর্থন না দিলে যুক্তরাজ্যসহ আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো এই বক্তব্যকে ভালোভাবে নেয়নি এবং পাল্টা অর্থনৈতিক প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার কথাও ভাবছে।
ট্রাম্পের এসব কড়া মন্তব্য ও হুমকির পরও প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যকার এই কূটনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

