গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরোধিতা করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হতে পারে—এমন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরুদ্ধে গেলে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিকল্প হিসেবে শুল্ক আরোপ বিবেচনায়…
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিরোধিতা করলে শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ
গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরোধিতা করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হতে পারে—এমন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরুদ্ধে গেলে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিকল্প হিসেবে শুল্ক আরোপ বিবেচনায় নেওয়া হবে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানকে যারা চ্যালেঞ্জ করবে, তাদের জন্য অর্থনৈতিক পরিণতি অপেক্ষা করতে পারে। তবে কোন কোন দেশ এই শুল্কের আওতায় পড়তে পারে কিংবা কোন আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর ডেনমার্কসহ ইউরোপের একাধিক দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শুধু আন্তর্জাতিক মহলেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও সংশয় দেখা দিয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যের সময়ই একটি দ্বিদলীয় কংগ্রেসনাল প্রতিনিধি দল গ্রিনল্যান্ড সফর করছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সরাসরি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। ১১ সদস্যের ওই প্রতিনিধি দলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের সদস্যরাই ছিলেন।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা গ্রিনল্যান্ডের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হলেও, অধিগ্রহণ প্রসঙ্গে উদ্বেগ ও আপত্তির কথাও উঠে আসে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস জানান, প্রতিনিধি দলের মূল লক্ষ্য ছিল স্থানীয় জনগণের মতামত শোনা এবং তা ওয়াশিংটনে পৌঁছে দেওয়া। তার ভাষায়, এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল ‘উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা’।
এর আগেও ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। একাধিক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, কৌশলগত কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রিনল্যান্ড অপরিহার্য এবং প্রয়োজনে এটি ‘সহজ উপায়ে বা কঠিন উপায়ে’ অধিগ্রহণ করা হতে পারে—যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
ভৌগোলিকভাবে গ্রিনল্যান্ড উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের মাঝামাঝি অবস্থানে অবস্থিত। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, সমুদ্রপথ নজরদারি এবং সামরিক কৌশলের দিক থেকে অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়ায় ভবিষ্যৎ ভূরাজনীতিতে এর ভূমিকা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে সতর্ক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

