বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নাম বেগম খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুতে জাতি হারিয়েছে একজন আপসহীন গণতান্ত্রিক নেত্রীকে—এমন মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত নাগরিক শোকসভায় বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী নন; তিনি ছিলেন একটি আদর্শ, একটি মূল্যবোধ এবং গণতন্ত্রের প্রতীক।শোকসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়…
খালেদা জিয়ার আদর্শই আগামীর বাংলাদেশের চালিকাশক্তি: নাগরিক শোকসভায় বিশিষ্টজনদের অভিমত
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নাম বেগম খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুতে জাতি হারিয়েছে একজন আপসহীন গণতান্ত্রিক নেত্রীকে—এমন মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত নাগরিক শোকসভায় বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী নন; তিনি ছিলেন একটি আদর্শ, একটি মূল্যবোধ এবং গণতন্ত্রের প্রতীক।
শোকসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। এতে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, সামরিক ও বেসামরিক স্বৈরতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক ও অনন্য। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি।
বক্তারা তার একটি বহুল উদ্ধৃত বক্তব্যের কথা স্মরণ করেন—
“বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, কিন্তু প্রভু নেই; দেশই আমার আসল ঠিকানা।”
এই দর্শনই তার রাজনৈতিক জীবনের মূল ভিত্তি ছিল বলে মন্তব্য করেন আলোচকরা।
শোকসভায় সভাপতির বক্তব্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন দৃঢ়চেতা, ধৈর্যশীল ও বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক। তিনি বলেন, এটি কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত নয়, বরং জাতির পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া উচিত।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জাতির এই সন্ধিক্ষণে খালেদা জিয়ার অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল। তার অনুপস্থিতি দেশের জন্য একটি বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। তিনি মনে করেন, নীতিনিষ্ঠতা ও দেশপ্রেমের যে শিক্ষা খালেদা জিয়া দিয়ে গেছেন, তা অনুসরণ করাই হবে তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, “বাংলাদেশ ভালো রাখতে হলে খালেদা জিয়াকে ধারণ করতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, সত্য, সহনশীলতা ও আত্মত্যাগ—এই গুণগুলোই ছিল তার রাজনীতির মূল শক্তি।
শোকসভায় আরও বক্তব্য দেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ অনেকে। তারা বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন প্রমাণ করে—তিনি কেবল ক্ষমতার রাজনীতি করেননি, বরং মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতার প্রশ্নে আজীবন লড়াই করেছেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও শোকসভায় যোগ দেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ অন্তত ২৩টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের উপস্থিতি শোকসভার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
শোকসভা শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়। বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার শারীরিক উপস্থিতি না থাকলেও তার আদর্শই আগামীর বাংলাদেশের পথনির্দেশক হয়ে থাকবে।

