সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে আবারও দেশের আকাশসীমা খুলে দিয়েছে ইরান। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উড়োজাহাজগুলো নিয়মিতভাবে তেহরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করছে। এর মধ্য দিয়ে কয়েক ঘণ্টার অনিশ্চয়তার পর আকাশপথে স্বাভাবিক যোগাযোগ ফিরিয়ে আনল দেশটি। অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪ নিশ্চিত করেছে, ইরানের আকাশসীমা সংক্রান্ত চলাচল নিষেধাজ্ঞার নোটিশ বা নোটাম (NOTAM)–এর মেয়াদ শেষ…
সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শেষে ইরান আকাশসীমা পুনরায় উন্মুক্ত করল
সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে আবারও দেশের আকাশসীমা খুলে দিয়েছে ইরান। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উড়োজাহাজগুলো নিয়মিতভাবে তেহরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করছে। এর মধ্য দিয়ে কয়েক ঘণ্টার অনিশ্চয়তার পর আকাশপথে স্বাভাবিক যোগাযোগ ফিরিয়ে আনল দেশটি।
অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪ নিশ্চিত করেছে, ইরানের আকাশসীমা সংক্রান্ত চলাচল নিষেধাজ্ঞার নোটিশ বা নোটাম (NOTAM)–এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। নোটামটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই একাধিক বাণিজ্যিক ও যাত্রীবাহী বিমান দেশটির আকাশসীমা ব্যবহার শুরু করে। এতে করে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নতুন করে গতি এসেছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এর আগে ইরান সাময়িকভাবে আকাশসীমায় কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। সে সময় আন্তর্জাতিক বেসামরিক ফ্লাইট ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। শুধুমাত্র পূর্বানুমতি পাওয়া নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক আগমন ও প্রস্থান ফ্লাইটকে সীমিত পরিসরে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
প্রাথমিক ঘোষণায় জানানো হয়েছিল, ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তেহরানের আকাশসীমা বন্ধ থাকবে এবং কেবল বেসামরিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনপ্রাপ্ত ফ্লাইটগুলোই ব্যবহার করতে পারবে। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আবারও আকাশসীমা উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় ইরানি কর্তৃপক্ষ।
ইরানের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশটিতে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা গেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে পশ্চিমা দেশগুলো ইরান সরকারের কঠোর সমালোচনা করছে।
এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে তাকে অবহিত করা হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এদিকে, জি–৭–এর সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘ইচ্ছাকৃত সহিংসতা’ চালানোর অভিযোগ এনে এর নিন্দা জানিয়েছেন। তারা ইরান সরকারকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, চলমান বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মদদ রয়েছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইরান সরকার এখন পর্যন্ত বিক্ষোভে হতাহতের কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি। যদিও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, ডিসেম্বরের শেষ দিকে আন্দোলন শুরুর পর থেকে কয়েক হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।
বর্তমানে আকাশসীমা পুনরায় চালু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে ইরানের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

