আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ব্যবহার করে দক্ষিণ আফ্রিকার জলসীমায় পৌঁছেছে চীন, রাশিয়া ও ইরানের যুদ্ধজাহাজ। এক সপ্তাহব্যাপী যৌথ নৌ মহড়ায় অংশ নিতে তিন মিত্রদেশ একযোগে এই কৌশলগত অঞ্চলে উপস্থিত হয়েছে। এমন এক সময় এই মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপ, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের অভিযোগ এবং একাধিক তেল ট্যাংকার জব্দকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র…
আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে চীন–রাশিয়া–ইরানের যুদ্ধজাহাজ
আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ব্যবহার করে দক্ষিণ আফ্রিকার জলসীমায় পৌঁছেছে চীন, রাশিয়া ও ইরানের যুদ্ধজাহাজ। এক সপ্তাহব্যাপী যৌথ নৌ মহড়ায় অংশ নিতে তিন মিত্রদেশ একযোগে এই কৌশলগত অঞ্চলে উপস্থিত হয়েছে। এমন এক সময় এই মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপ, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের অভিযোগ এবং একাধিক তেল ট্যাংকার জব্দকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে—শনিবার একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যৌথ নৌ মহড়া শুরু হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্ন রাখতে সহযোগিতা জোরদার করাই এই অনুশীলনের প্রধান লক্ষ্য।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মহড়ার অংশ হিসেবে সমুদ্রভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ অনুশীলন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, উদ্ধার তৎপরতা এবং সমন্বিত কৌশলগত মহড়া পরিচালনা করা হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের দক্ষিণে অবস্থিত দেশটির প্রধান নৌঘাঁটি সাইমনস টাউন বন্দরে চীন, রাশিয়া ও ইরানের যুদ্ধজাহাজ প্রবেশ করতে দেখা গেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরটি ভারত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক।
তবে এই যৌথ নৌ মহড়ায় ব্রিকস জোটের অন্যান্য সদস্য—যেমন ব্রাজিল, ভারত কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাত—অংশ নিচ্ছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পূর্ণ তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং বিষয়টি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিরক্ষা বাহিনীর মতে, এই যৌথ অনুশীলনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী নৌবাহিনীগুলো পরস্পরের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সর্বোত্তম সামরিক চর্চা শিখতে পারবে। পাশাপাশি যৌথ অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই নৌ মহড়া এমন এক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী গত শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করেছে বলে দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভেনেজুয়েলা-সংশ্লিষ্ট একাধিক তেল ট্যাংকার জব্দ করেছে। এসবের মধ্যে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে রুশ পতাকাবাহী একটি জাহাজও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছে।
এই ঘটনার জেরে আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্য নিয়ে রাশিয়া ও তার মিত্রদেশগুলো বড় ধরনের চাপে পড়েছে। মস্কো কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন ও সার্বভৌম অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যৌথ নৌ মহড়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও চাপের মুখে পড়তে পারে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার উপ–প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বান্টু হলোমিসা স্পষ্ট করে বলেন, “বর্তমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনার অনেক আগেই এই মহড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কারও সমস্যা হলেই আমাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তারা আমাদের শত্রু নয়।”

