মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরান-এর বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি অভিযানের ২১তম দিনে এসে ওয়াশিংটন অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে, যা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউজমেক্স একাধিক অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের চলমান অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের শক্তিশালী করতে নতুন…
ইরান যুদ্ধে ৪ হাজার সেনা ও যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরান-এর বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি অভিযানের ২১তম দিনে এসে ওয়াশিংটন অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে, যা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউজমেক্স একাধিক অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের চলমান অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের শক্তিশালী করতে নতুন করে প্রায় ৪ হাজার মেরিন ও নৌসেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজও মোতায়েন করা হবে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নতুন বাহিনী মূলত ‘বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ’-এর অংশ হিসেবে পশ্চিম উপকূল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে। এই বহরে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং উভচর যান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা প্রয়োজনে স্থলভাগে আক্রমণ পরিচালনায় ব্যবহৃত হতে পারে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেরিন সেনা এবং উভচর যুদ্ধজাহাজ USS Tripoli মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে। নতুন এই মোতায়েনের ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র এখনো পুরোপুরি সংঘাত থেকে সরে আসার পরিবর্তে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানের পাল্টা প্রতিরোধের মুখে ওয়াশিংটন কিছুটা কৌশলগত নমনীয়তা দেখাচ্ছে, তবুও যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনের কোনো স্পষ্ট উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি।
এই সংঘাতে শুধু সেনা মোতায়েন নয়, বরং আধুনিক সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবহারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানগুলো আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
এদিকে সাম্প্রতিক এই সামরিক পদক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি সামরিক উপস্থিতি কেবল ইরান নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বড় পরিসরের সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ইঙ্গিত বহন করে। পাশাপাশি এতে করে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও সংকুচিত হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ইরানের প্রতি চাপ বাড়ানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এটি একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।

