এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে সারা দেশে একযোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্তভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।কেন পরিবর্তন হলো পরীক্ষার সময়সূচিপ্রচলিত শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি…
এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে সারা দেশে একযোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্তভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
কেন পরিবর্তন হলো পরীক্ষার সময়সূচি
প্রচলিত শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে গত কয়েক বছর ধরে এই নিয়ম ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। করোনা মহামারির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা, পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন এবং শিক্ষাবর্ষে ঘাটতির কারণে পরীক্ষার সূচিতে বারবার পরিবর্তন এসেছে।
চলতি বছর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাতীয় নির্বাচন এবং পবিত্র রমজান মাস। সংশ্লিষ্টদের মতে, রমজান মাসে পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক—উভয়ের জন্যই বাড়তি চাপ তৈরি হয়। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক ব্যস্ততা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এসব বাস্তবতা মাথায় রেখেই এপ্রিলের শেষ সপ্তাহকে পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তুতির অগ্রগতি ও বোর্ডের বক্তব্য
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার এহসানুল কবির সাংবাদিকদের জানান, পরীক্ষার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী বা টেস্ট পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং ফরম পূরণের কাজ শেষের পথে।
তিনি বলেন, “প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারণ ও তদারকি ব্যবস্থার কাজ চলমান রয়েছে। মাঠপর্যায় থেকে বিশেষ কোনো অনুরোধ এলে ফরম পূরণের সময়সীমা দু-এক দিন বাড়ানো হতে পারে। আশা করছি, এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে।”
নকল ও বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর ব্যবস্থা
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে কড়াকড়ি নজরদারি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তৎপরতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। প্রশ্নফাঁস রোধে প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ও কেন্দ্রভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান
শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে বোর্ড ঘোষিত নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার দিকেও গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। অভিভাবকদের অনুরোধ করা হয়েছে, পরীক্ষার আগে অযথা চাপ সৃষ্টি না করে সহায়ক পরিবেশ বজায় রাখতে।
সার্বিক মূল্যায়ন
শিক্ষাবিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষার সময়সূচি পিছিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত প্রস্তুতির সুযোগ পাচ্ছে, যা ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জাতীয় নির্বাচন ও রমজান মাস বিবেচনায় নিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে তারা বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী বলে মনে করছেন।
সব মিলিয়ে, এবারের এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—পরিকল্পিত প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা এবং শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনার প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা।

