ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী মিশন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসিকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া হুমকির কড়া প্রতিবাদ জানাতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। চিঠিতে ইরান সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের হুমকি যদি স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়, তাহলে তা আন্তর্জাতিক পরমাণু…
যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্ত লঙ্ঘন করছে — ইরান আইএইএর কাছে অভিযোগ জানিয়েছে”
ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী মিশন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসিকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে।
ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া হুমকির কড়া প্রতিবাদ জানাতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। চিঠিতে ইরান সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের হুমকি যদি স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়, তাহলে তা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার গ্রহণযোগ্যতা এবং বিশ্বব্যাপী পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)–এর জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
ইরানি মিশনের বক্তব্যে বলা হয়, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বেপরোয়া এমন বক্তব্য শুধু আইএইএর বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং সংস্থাটির যাচাইকরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে যে আন্তর্জাতিক আস্থা গড়ে উঠেছে, সেটিকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
চিঠিতে তেহরান জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কঠোর নিন্দা জানানো জরুরি এবং যারা এর জন্য দায়ী, তাদের পূর্ণ জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার অধিকার যে কোনো পরিস্থিতিতেই অক্ষুণ্ণ থাকবে—এ বিষয়টিও পুনরায় স্পষ্ট করা হয়েছে।
এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের সূত্রপাত ঘটে গত ২৯ ডিসেম্বর। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে সংলাপে আগ্রহী হলেও সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্প এখনও খোলা রয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে দাবি করেন, ইরান যদি আবার পরমাণু সক্ষমতা বাড়ানোর পথে এগোয়, তবে তা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো উপায় থাকবে না।
ট্রাম্পের এই সংঘাতমুখী বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক মহলের শীর্ষ কর্মকর্তারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তেহরান স্পষ্টভাবে ওয়াশিংটনের এই হুমকিকে প্রত্যাখ্যান করে। ভিয়েনা থেকে পাঠানো চিঠির মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বোঝাতে চেয়েছে যে, এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করছে।

