গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ন্যাটো ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে না পারে,…
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা, শুল্কের হুমকিও দিলেন ট্রাম্প
গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ন্যাটো ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে না পারে, তবে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলো, যার মধ্যে ‘গোল্ডেন ডোম’ উল্লেখযোগ্য, সেগুলোর ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এই তথ্য জানিয়েছে।
যদিও গ্রিনল্যান্ডে সম্ভাব্য সামরিক বা নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি, তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে ন্যাটোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত মার্কিন উদ্যোগে বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে তার পূর্বের এক আলোচনার উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অতীতে ওষুধপণ্যের মূল্য ইস্যুতে ফ্রান্সের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি যেমন দেওয়া হয়েছিল, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতেও প্রয়োজনে তেমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত জরুরি এবং যারা এই বিষয়ে সহযোগিতা করবে না, তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হতে পারে।
এর আগেও ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপটি রাশিয়া বা চীনের প্রভাবের আওতায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই ঝুঁকি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত গ্রিনল্যান্ড ‘অধিগ্রহণ’ করা। তার এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়।
ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির কোনো প্রশ্নই ওঠে না এবং দ্বীপটির ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব অটুট থাকবে।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ডেনমার্কের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউসে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন সাংবাদিকদের জানান, আলোচনা খোলামেলা ও গঠনমূলক হলেও সার্বভৌমত্ব ও মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে গ্রিনল্যান্ড কেবল একটি ভূ-রাজনৈতিক অঞ্চল নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাম্প্রতিক বক্তব্যে ট্রাম্প আবারও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি গ্রিনল্যান্ডকে ভবিষ্যতের মার্কিন নিরাপত্তা কাঠামোর অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছেন।

