Hadi murder case investigation reveals escape route via Haluaghat border

ডেস্ক রিপোর্ট | ঢাকাপ্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। হত্যার পর প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর শেখকে ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তাকারী দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তি যুবলীগ নেতার ভগ্নিপতি…

হাদি হত্যাকাণ্ড: খুনিদের পালাতে সহায়তায় যুবলীগ নেতা তাইজুলের নাম উঠে এলো


ডেস্ক রিপোর্ট | ঢাকা
প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। হত্যার পর প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর শেখকে ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তাকারী দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তি যুবলীগ নেতার ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলাম।


এই মামলায় এখন পর্যন্ত পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, হাদি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি ও নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ চলছে। শুটার ফয়সাল এবং মোটরসাইকেলচালক আলমগীর কীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছেন—সে বিষয়েও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে।


পুলিশের ভাষ্যমতে, এই পালানোর ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ঢাকা উত্তর সিটির মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী)। পুরো প্রক্রিয়ায় তাঁকে সহযোগিতা করেন তাঁর ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলাম।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাইজুল মিরপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি ভারতে চলে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে গুলিবর্ষণকারী ফয়সাল করিম মাসুদ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। তাঁর সহযোগী আলমগীর শেখ আদাবর থানা যুবলীগের একজন কর্মী।


এ পর্যন্ত পাওয়া তদন্ত তথ্য অনুযায়ী, হত্যার ঘটনা ঘটার পরই ফয়সাল ও আলমগীর ওই রাতেই ঢাকা ছাড়েন। একাধিকবার যানবাহন পরিবর্তন করে তাঁরা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে পৌঁছান এবং সেখান দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন।


সূত্রগুলো বলছে, এই সীমান্ত পারাপারের পরিকল্পনা আগেই সাজানো ছিল। যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বিষয়টি আগে থেকেই প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় অর্থের বিনিময়ে অবৈধ পারাপারে জড়িত কয়েকজন দালাল সক্রিয় রয়েছে। তাদের একজন ফিলিপ স্নাল, যাঁর বাড়ি সীমান্তসংলগ্ন ভুটিয়াপাড়া গ্রামে।


তদন্তে জানা গেছে, হাদিকে গুলি করার কিছু সময় পর তাইজুল তাঁর ভগ্নিপতি আমিনুলকে ফোন করে জানান, ভারত থেকে দালাল ফিলিপের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করতে পারছেন না। তখন আমিনুলকে নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন দ্রুত ফিলিপের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানানো হয়—দুই ব্যক্তিকে ওই রাতেই সীমান্ত পার করতে হবে।


এরপর আমিনুল ফিলিপের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে তাইজুলের নির্দেশ পৌঁছে দেন এবং বিষয়টি নিশ্চিত করে আবার তাঁকে অবহিত করেন। পরে তাইজুলের নির্দেশ অনুযায়ী আমিনুল তাৎক্ষণিকভাবে ফিলিপের কাছে পাঁচ হাজার টাকা পাঠান।


এই সময় ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকা থেকে রওনা হয়ে গভীর রাতেই হালুয়াঘাট সীমান্তে পৌঁছান। সেখান থেকে দালাল ফিলিপ তাঁদের দুজনকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করিয়ে ভারতে পাঠান।


🕵️‍♂️ গোয়েন্দা নজরদারি ও গ্রেপ্তার
হত্যাকাণ্ডের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গোয়েন্দা পুলিশ ফয়সাল ও আলমগীরের অবস্থান শনাক্ত করে। তাঁদের অবস্থান হালুয়াঘাট সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় ধরা পড়ে। পরবর্তীতে সেখানে অভিযান চালিয়ে ফিলিপের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সীমান্ত পার করানোর পর টেলিভিশনের সংবাদ দেখে তারা বুঝতে পারে—এই দুই ব্যক্তি ঢাকায় বড় ধরনের অপরাধ ঘটিয়ে পালিয়েছে। এরপর ফিলিপকে সতর্ক করা হলে সে আত্মগোপনে চলে যায়।


গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ফিলিপের সঙ্গে কারা কীভাবে যোগাযোগ করেছে—তা অনুসন্ধান করতে গিয়ে মিরপুরের বাসিন্দা আমিনুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। পরে তাঁকে আটক করা হয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ফয়সাল ও আলমগীরকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে আমিনুল ইসলামকে মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *