মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ড্রোন হামলার বিষয়টি। সৌদি আরব দাবি করেছে, সোমবার ভোর থেকে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে দেশের পূর্বাঞ্চলে মোট ৬১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।বার্তা সংস্থা এজেন্সি ফ্রান্স প্রেস (এএফপি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একাধিক বিবৃতি প্রকাশ করে এ দাবি করে। বিবৃতিতে…
সৌদির দাবি: ভোর থেকে ৬০টির বেশি ড্রোন ধ্বংস
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ড্রোন হামলার বিষয়টি। সৌদি আরব দাবি করেছে, সোমবার ভোর থেকে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে দেশের পূর্বাঞ্চলে মোট ৬১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
বার্তা সংস্থা এজেন্সি ফ্রান্স প্রেস (এএফপি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একাধিক বিবৃতি প্রকাশ করে এ দাবি করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সোমবার ভোরের দিকে দেশের পূর্বাঞ্চলে কয়েকটি ড্রোন শনাক্ত করা হয়। এরপর দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একে একে সব ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করা হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ড্রোনগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে ড্রোনগুলো কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে এই ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই অস্থির হয়ে উঠেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ হামলা চালায়। ওই হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়।
এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে ইরানের ভেতরেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে, এসব হামলায় হাজারের বেশি ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এই ঘটনার পর থেকে পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও কঠোর করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশ তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিশেষ করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনা মাথায় রেখে অনেক দেশ আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। কারণ আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কম খরচে এবং দ্রুত আক্রমণ চালানোর সক্ষমতার কারণে ড্রোন এখন সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে এসব প্রতিরোধে উন্নত প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
সৌদি আরবের সাম্প্রতিক দাবি অনুযায়ী, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
তবে এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সামরিক উত্তেজনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

